ছবি: আপন দেশ
চলন্ত ট্রেনে নারী যাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশের কর্তব্যরত ৪ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওই চার পুলিশ সদস্যরা হলেন- এটিএসআই খোকন ইসলাম (৩৫), পুলিশ সদস্য ফজলে রাব্বি (৩৪), গোলাম মোস্তফা (৩৬) ও আশিকুল রহমান (৩০)।
বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের প্রত্যাহার করে পাকশি জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি দুলাল উদ্দীন।
তিনি বলেন, ঘটনার দিন ওই চার পুলিশ সদস্য ট্রেনে দায়িত্বে ছিলেন। সেজন্য তাদের প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে নেয়া হয়। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও দোষীদের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জানাগেছে, তাদের দায়িত্ব অবহেলা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের প্রত্যাহার করে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশ লাইনে নেয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনে চলন্ত অবস্থায় ৪৪ বছর বয়সী এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই নারীর মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা দুই পুলিশ সদস্য তার কাছে থাকা ১০ হাজার টাকাও নিয়ে গেছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে হেনস্তা করার পর ধর্ষণ করেছে ট্রেনে খাবারের বগির ক্যান্টিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিক।
তবে আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করেছে আবু বক্কর সিদ্দিক। বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার আমলী আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অভিযুক্ত আবু বক্কর সিদ্দিক দাবি করেছেন, ওই নারীর কারণেই তাদের মধ্যে চলন্ত ট্রেনের ক্যান্টিনে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এটা শারীরিক সম্পর্ক, ধর্ষণ নয়। যেহেতু কাজটি দুজনের সমঝোতার ভিত্তিতে হয়েছে।
আরও পড়ুন<<>>কক্সবাজার সৈকতে সড়ক নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ
ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি রেকর্ডের পর আদালত আবু বক্কর সিদ্দিককে বগুড়ার জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মেডিক্যাল টেস্টের পর ওই নারীকে তার ছেলের জিম্মায় হস্তান্তর করেছে।
মামলার তদন্তকারী অফিসার সান্তাহার জিআরপি থানার এসআই মাহফুজুর রহমান জানান, বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত আবু বক্কর সিদ্দিক বলেছেন, সোমবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেন ঈশ্বরদী বাইপাস ছেড়ে আসার পর নাটোর পৌঁছানোর আগে তিনি ক্যান্টিনে এসে দেখেন ওই নারী বসে আছেন।
আবু বকর সিদ্দিক ওই নারীকে বলেন, আমার ডিউটি শেষ আমি ঘুমাব, আপনি অন্যত্র যান। প্রতিউত্তরে ওই নারী আবু বক্কর সিদ্দিককে ঘুমাতে বলেন এবং তিনি সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে চলে যাবেন বলেও জানান।
এরপর বিছানা পেতে আবু বক্কর সিদ্দিক ঘুমানোর সময় বুঝতে পারেন তার পাশে কেউ তাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছেন। এরপর উভয়ের সম্মতিতে তাদের মধ্যেও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন হয়।
আবু বকর সিদ্দিক আরও বলেন, ওই সময় সেখানে কোনো পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। এরপর ওই নারী বিছানা থেকে উঠে বসেন। এরপর তার ছেলেসহ কয়েকটা জায়গায় কল করেন। ঘটনার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ভোর চারটার দিকে ৯৯৯-এ কল করে অভিযোগ করলে পার্বতীপুর রেলওয়ে পুলিশ তাকেসহ ওই নারীকে ট্রেন থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































