ফাইল ছবি
জ্যৈষ্ঠে এসেছিলেন তিনি। ভাদ্রে বিদায় নিয়েছেন। শোষিত-নিপীড়িত মানুষের বঞ্চনার ক্ষোভ দীপ্ত শিখার মতো জ্বলে উঠেছিল তার কণ্ঠে। সাম্প্রদায়িকতার বিষকে দূর করে তুলে এনেছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ মানবতার অমৃত বাণী। আবার তিনিই কোমল সুকুমার হৃদয়ানুভবে আবেগে থরথর। তিনি বিদ্রোহী, তিনিই গানের পাখি বুলবুল। আজ ১২ ভাদ্র, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণ দিবস।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কবির পরিবারের, রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষক, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলের চেতনা ছড়িয়ে দেয়ার তাগিদ কবি পরিবারের।
নজরুল কোন দূর অতীত নয়, সব সময়ের লড়াই-সংকটের আশ্রয়। যিনি গেয়েছিলেন সাম্যের গাণ, ভেঙেছিলেন শৃঙ্খলের প্রাচীর, তার এ পঞ্চাশতম মৃত্যু বার্ষিকী কেবল শোকের নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও চেতনার পুণর্জাগরণের দিন। প্রেম ও দ্রোহের যে আগুন তিনি জ্বেলেছিলেন, তা আজও বাঙালির জীবনে জাজ্বল্যমান।
প্রথমেই কবির মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা নজরুলের গান গাইতে গাইতে রাজপথে নেমেছিলেন। অন্যায় প্রতিহত করে ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কবি নজরুল সবার শক্তি ও অনুপ্রেরণা।
তিনি বলেন, সমাজের বৈষম্যের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন নজরুল। সামাজিক অন্যায়ের পাশাপাশি সব ধরনের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে তিনি বিপ্লবের বাণী প্রচার করেছেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ প্রতিটি আন্দোলনে নজরুল ছিলেন অনুপ্রেরণার উৎস।
আরও পড়ুন<<>>রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলে যাওয়ার দিন আজ
বাংলা ১৩৮৩ সালের ১২ ভাদ্র (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) তৎকালীন পিজি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন কবি নজরুল ইসলাম। যুগ যুগ ধরে সাম্য, মানবতা, প্রেম ও দ্রোহের বাণী ছড়িয়ে দেওয়া মহান কবিকে আজ যথাযথ মর্যাদায় ও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে পুরো জাতি।
১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। শৈশবে ‘দুখু মিয়া’ নামে পরিচিত নজরুল জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে বেড়ে ওঠেন। তার লেখনীতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা মূর্ত হয়ে ওঠে। তিনি কেবল কবিতাতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। গান, নাটক, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, সাংবাদিকতা এবং চলচ্চিত্রেও রেখে গেছেন নিজস্ব স্বকীয়তার স্বাক্ষর। তার রচিত হাজার হাজার গান বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার গান ও কবিতা মুক্তিযোদ্ধাদের মনে সাহস ও প্রেরণা যুগিয়েছে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে কবিকে সপরিবারে কলকাতা থেকে বাংলাদেশে আনা হয় এবং তাকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তাকে একুশে পদক প্রদান করা হয়। মৃত্যুর পর তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
নজরুল কেবল একটি সময়ের গণ্ডিতে আবদ্ধ নন; তিনি চিরকালীন ও সর্বজনীন। বর্তমান সময়েও সাম্য, ন্যায়বিচার ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের লড়াইয়ে নজরুলের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে যুগ যুগ ধরে পথ দেখাবে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































