ছবি: আপন দেশ
নিত্যপণ্যের বাজারে ক্রমাগত উচ্চমূল্যের কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রায় নাভিশ্বাস উঠেছে। সরকারিভাবে বেশ কিছু শুল্ক ছাড় এবং বাজার মনিটরিংয়ের উদ্যোগ নেয়া হলেও তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। গেল কয়েক সপ্তাহের তুলনায় রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমলেও অমৌসুমি সবজি এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে দাম কমার তেমন কোনও লক্ষণ নেই।
কাঁচাবাজারে অস্বস্তির মধ্যেই নতুন করে অস্থিরতা বেড়েছে মুদি পণ্যের দামে। বিশেষ করে ভোজ্যতেল, চিনি, আটা, ময়দা, ডিমসহ বেশকিছু পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমূখি। ফলে বাজারে গিয়ে স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে বোতলজাত ভোজ্যতেল ও চিনির সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। অনেক দোকানে তেল ও চিনি পাওয়া যাচ্ছে না।
আয় বাড়ার তুলনায় পণ্যের দাম বেশি বাড়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সীমাহীন কষ্টে দিন পার করছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এদিন রাজধানীর কমলাপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ঢেঁড়শ, পটোল, কাকরোল, ঝিঙে ও জালি ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। করলা ৭০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। তবে তুলনামূলক কিছুটা কম দামে শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা ও টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতি পিচ ৫০ থেকে ৭০টাকা, কচুরমুখি ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমেই বাজারে আসা শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে।
কাঁচাবাজারের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাঁচা মরিচের দাম স্বাভাবিক হয়েছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি।
কাঁচা মরিচের এক আড়ৎদার বলেন, মূলত ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির সুযোগ দেয়ার পর সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণে দামও অনেকটা কমেছে।
পেঁয়াজের দামও স্বাভাবিক হয়েছে। মানভেদে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর দামও দীর্ঘদিন ধরে প্রায় একই রয়েছে। প্রতি কেজি আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় ভ্যানে পাঁচ কেজি আলু একসঙ্গে ১০০ টাকায় বিক্রি করতেও দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন<<>>নিত্যপণ্যের চড়া দামে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা
ডিমের দামও এখনো আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং চারটি ডিম ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানে এক ডজন ডিম ১৬০ টাকাও বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বর্ষা মৌসুমেও মাছের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই । বাজারে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০, পাঙাস ২৩০ থেকে ২৫০, রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০ এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজর ৩০০ টাকা কেজি। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মিগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং সইল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে। তবে মাছের সাইজ ও জীবিত ও মৃত উপর দাম নির্ভর করে। প্রতিটি বাজারে ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিপ্রতি কম বেশি হতে পারে।
অন্যদিকে, ভোজ্যতেল, চিনি, আটা, ময়দা, ডিমসহ বেশকিছু পণ্যের দাম বাড়তি। বর্তমানে প্যাকেটজাত ময়দা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও এ ময়দা বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। বাজারে দুই কেজি ময়দার প্যাকেটের গায়ে লেখা দাম এখন ১৬০ টাকা, যা ১৪০ টাকা ছিল।
ল ও চিনির বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। প্যাকেটজাত চিনিরও গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা করা হয়েছে।
বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহও কমেছে। যদিও খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও এখনো বোতলজাত তেলের দাম বাড়েনি। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেক দোকানেই চাহিদা অনুযায়ী বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা পাম তেলের দাম প্রতি লিটার ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা। আর সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০০ টাকা।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































