Apan Desh | আপন দেশ

ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ০৮:৫৫, ৫ আগস্ট ২০২৬

ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ

ফাইল ছবি

আজ ০৫ আগস্ট (বুধবার), ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস । ২০২৪ সালের এ দিনে ছাত্র-জনতার সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও তীব্র প্রতিরোধের মুখে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটে। গণভবন ও সংসদ ভবনে তৈরি হয় উল্লাসিত জনতা ইতিহাস। 

চব্বিশের ০৫ আগস্ট (সোমবার) ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ। আগের দিনের এ ঘোষণা সরকার পতনের শেষ পেরেক। গণহত্যার বিপরীতে আপামর জনতার লংমার্চ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মত বিস্ফোরিত হওয়ার অপেক্ষায়। লংমার্চ প্রতিরোধে ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে ভোরের আলো ফোটার আগেই পুলিশ, র‌্যাব আর সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থান। কাটাতার, মারণাস্ত্র আর সাজোয়া যানের উপস্থিতি জানান দিচ্ছিল নড়ে যাওয়া গদি রক্ষায় নির্মমতায় শেষ পর্যায়ে নামতে প্রস্তুত ততকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার।

সকাল ৭টা পর্যন্ত আন্দোলনের ৩ হটস্পট যাত্রাবাড়ি, উত্তরা ও রামপুরায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ছাড়া ছিল না তেমন কেউ। উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর শঙ্কার সংমিশ্রণে গুমোট ঢাকার রাজপথ। কোটা আন্দোলন থেকে সরকার পতনের মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঘিরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকাসহ সকাল থেকেই চাঁনখারপুল ও নিমতলীতে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করতে থাকে ছাত্র-জনতা। সকাল ১০টার পর থেকে খারাপ হতে থাকে পরিস্থিতি। গুলি আর টিয়ারশেলে নির্মম প্রতিরোধের চেষ্টা চালায় পুলিশ বাহিনী। এদিন নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে চাঁনখারপুলেই প্রাণ হারায় শহীদ আনাসসহ আরও ৬ জন।

একই সময়ে ভিড় বাড়তে থাকে রামপুরা, উত্তরা আর যাত্রাবাড়ির অলি-গলিগুলোতে। ধীরে ধীরে জড়ো হওয়া জনতা মধ্যদুপুরের মধ্যে রূপ নেয় জনসমুদ্রে। কারফিউ ভেঙ্গে, নিরাপত্তা বাহিনীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সারা দেশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে রাজধানীতে প্রবেশ করতে থাকে মুক্তিকামী জনতা। জনসমুদ্রের ঢেউতে ভেঙ্গে পড়তে থাকে একের পর এক নিরাপত্তা বেষ্টনি। ইতিহাসের মহাকাব্যের তখন বাকি আর কয়েক ঘণ্টা।

এদিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গণভবন ছাড়ার প্রস্তুতি নেন শেখ হাসিনা। দেশের আপামর জনতার ওপর সেনাবাহিনীর গুলি ছুঁড়তে অপারগতা উপসংহার টেনে দেয় ১৭ বছরের এক বন্দিশালার। দুপুর ২টার মধ্যে খবর আসে হেলিকপ্টারে করে পালিয়েছেন শেখ হাসিনা। এমন খবরে বিজয় উল্লাস করে গণভবন ও সংসদ ভবনমুখী হয় ছাত্র জনতা।

আরও পড়ুন<<>>জুলাই অভ্যুত্থান ছিল জনগণের আন্দোলন: প্রধানমন্ত্রী

এদিন বিকেল পৌনে চারটার কিছু পরে শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করে এবং দেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন সেনা প্রধান। প্রতিটি হত্যাকাণ্ড ও অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ঐতিহাসিক এ দিনের শেষ হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বহুল প্রতীক্ষিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে। ৫ আগস্ট রাত ৯টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই ভবনে এ সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকারের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা পেশ করা হবে বলে ঘোষণা দেন প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। এর ৩ দিন পর ৮ আগস্ট ড. মুহম্মদ ইউনুসকে প্রধান করে ১৪ জন উপদেষ্টা নিয়ে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

জাতীয় কর্মসূচি 
জাতীয় পর্যায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। সকালে দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকাসহ ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানে সাজানো হবে।

এদিন সকাল ৯টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেলা ১১টায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

আরও আয়োজন
এ উপলক্ষে বিএনপি গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিশেষ আলোচনা সভা করেছে। 

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে গণসমাবেশ করবে। 

এ ছাড়া গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স, গণফোরামসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement