ছবি: আপন দেশ
ভারতে সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্য বিধান সভা নির্বাচন পরবর্তিতে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে তা উদ্বেগজনক। সেখানে সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর উগ্র হিন্দুত্ববাদী কর্তৃক যে বর্বর হামলা হচ্ছে তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। একই সঙ্গে বর্বর এ হামলা বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (০৬ মে) খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, ভারতকে নিজ দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব ঘটনায় ভারত সরকারের প্রতি ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানাতে আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর উগ্রবাদী হিন্দুদের নির্যাতনের মাত্রা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্যরা বলেন, ভারতে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মুসলিমদেরকে বাংলাদেশী ট্যাগ দিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হচ্ছে। তাদের মসজিদ, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর করা হচ্ছে। শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় বহু হতাহত হয়েছে। আসামে অনেক মুসলমান পরিবার, ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় ক্যাম্পে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমনকি বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলের হিন্দু কর্মীদের উপরও হামলা বেড়েছে। এতে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিচ্ছে। এসব ঘটনায় বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইনের আশংকাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও পড়ুন<<>>মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের বৈঠক
দেশে সামাজিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, মাদক, অশ্লীলতা, বিবাহ বহির্ভূত যৌনাচার, কিশোর গ্যাং প্রভৃতি সামাজিক অবক্ষয়ের মাত্রা বাংলাদেশে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষা ও সুস্থ সংস্কৃতি জোরদার, পারিবারিক-সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এ মুহূর্তে বিশেষ প্রয়োজন।
সরকারকে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, এবার হাওর অঞ্চলে আকস্মিক জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারকে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। দেশের খাদ্য ও জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও উন্নত ও টেকসই ব্যবস্থাপনার প্রতি সরকারকে মনোযোগী হওয়া উচিত বলে জানান তারা। এছাড়াও ফেনী, সিলেট, রংপুর সহ সাম্প্রতিক সময়ে বারবার বন্যা কবলিত অঞ্চলে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত এবং খাল খনন, উদ্ধার ও সংস্কার প্রক্রিয়া সরকারকে এ মৌসুমেই সম্পন্ন করারা পরামর্শ দেন।
সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে আরও বলা হয়, গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কার করতে সরকারকে অবশ্যই আন্তরিক হতে হবে। বিএনপি ভুলে গেলে চলবে না, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজারও শহীদ ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের ত্যাগের বিনিময়ে তারা আজ সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে জনগণের কাছে রাজনৈতিক বেঈমান ও ওয়াদা বরখেলাপকারী হিসেবে চিহ্নিত হবে। জুলাই গণহত্যাসহ সকল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে ট্রাইব্যুনাল ও আদালতে জনবল বৃদ্ধি করতে হবে। শেখ হাসিনাসহ পলাতক দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের উদ্যোগ ত্বরান্বিত করতে হবে।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমীরে মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মাসিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, অধ্যাপক আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, মুহাদ্দিস শেখ মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রিফাত হোসাইন মালিক, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শায়খুল ইসলাম, যুব বিষয়ক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, খন্দকার শাহাবুদ্দিন আহমদ, মুফতি আবদুল হক আমিনী, মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকার, আলহাজ্ব নুর হোসেন, মাওলানা ফারুক আহমদ ভুঁইয়া, মাওলানা নজরুল ইসলাম মাজহারী, আবুল হোসেন, আমির আলী হাওলাদার প্রমুখ।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































