ছবি: আপন দেশ
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশন শুরু করেছেন কুড়িগ্রামের উলিপুর থেকে আসা বিশ বছর বয়সি এক তরুণী।
বৃহস্পতিবার (০৭ মে) সকালে উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়নের কৈখালী গ্রামের একটি বাড়িতে ওই তরুণী অবস্থান নেন। পরে বাড়ির সদস্যরা ঘরে তালা দিয়ে সরে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
ওই তরুণী জানান, প্রায় তিন বছর আগে ঢাকার একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরির সুবাদে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে প্রায় এক বছর আগে পাঁচ লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে হয়।
তিনি দাবি করে, বিয়ের পর তারা ঢাকার লতিফপুর বোড়া মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাসায় সংসার করতেন। এর মধ্যে তাকে দুইবার নিজ বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন ওই যুবক। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেন। গত ১৪ এপ্রিল তার স্বামী বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে ফোন বন্ধ রয়েছে। এরপর আর কোনো যোগাযোগ করেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও স্বামীর সন্ধান না পেয়ে ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে আসেন তিনি।
আরও পড়ুন<<>>ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে আটক প্রধান শিক্ষক
তিনি বলেন, আমার উপস্থিতির খবর পেয়ে আমার স্বামীর পরিবারের লোকজন ঘরে তালা দিয়ে চলে যান। যতক্ষণ পর্যন্ত সে (স্বামী) এসে আমাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না দেবে, ততক্ষণ আমি এখান থেকে যাব না। প্রয়োজনে আত্মহত্যা করব।
এ বিষয়ে জানতে ওই যুবকের পরিবারের সদস্যদের যোগযোগের চেষ্টা করা হয়। তার মায়ের ফোনে কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সেলিম বলেন, আমি বর্তমানে এলাকার বাইরে আছি। বিষয়টি শুনেছি। এলাকায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করব।
এদিকে জান্নাতী আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘কাঁঠালিয়া নাগরিক ফোরাম’। সংগঠনের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে মানবিক সহায়তা হিসেবে শুকনা খাবার প্রদান করা হয়েছে।
কাঁঠালিয়া নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে তরুণীর অধিকার আদায়ের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ এবং তাকে সামাজিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাঠালিয়া নাগরিক ফোরামের সভাপতি মো. বাদল হাওলাদার, কাঠালিয়া নাগরিক ফোরামের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বিশিষ্ট ঠিকাদার মো. শহিদুল ইসলাম নাগরিক ফোরামের সহসা সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাতুল ইসলাম।
এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাছের রায়হান জানান, ওই তরুণী এক মাস আগে রাতে কোথাও থাকার জায়গা নেই বলে এক শিশুসহ থানায় আশ্রয় নিয়েছিল। সকালে তারা চলে যায়। আজকে শুনেছি সে এসেছে স্বামীর বাড়িতে। খোঁজখবর নেয়া হবে।
কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মকবুল হোসেন বলেন, ওই তরুণী আমাকে কল দিয়েছিল। যেহেতু পারিবারিক বিষয়, তাকে আদালতে মামলা করতে বলা হয়েছে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































