ফাইল ছবি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করায় দলগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েচেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তার পক্ষে নিসচা’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয় বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এ যে দলই রাষ্ট্রক্ষমতায় আসুক না কেন, শুধু ক্ষমতাসীন দলের উদ্যোগেই নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
এ জন্য প্রয়োজন বিরোধী দলসহ সকল রাজনৈতিক শক্তির আন্তরিক সহযোগিতা, প্রশাসনের জবাবদিহি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোরতা, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সর্বস্তরের জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতিহারে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি। এটি প্রমাণ করে যে, দীর্ঘদিনের সামাজিক আন্দোলন এবং গণচাপের ফলে সড়ক নিরাপত্তা এখন জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।
আরও পড়ুন<<>>নির্ভয়ে ভোট দেয়ার আহবান প্রধান উপদেষ্টার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতিহারে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিএনপির ইশতিহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সড়ক নিরাপত্তা আইন ও সড়ক দুর্ঘটনারোধে একটি সমন্বিত ও টেকসই কৌশল গ্রহণ করা হবে। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স নিশ্চিত করা, যানবাহনের ফিটনেস যাচাই, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়কে শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তোলা হবে। এ জন্য একটি শক্তিশালী ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর এ ধরনের অঙ্গীকার নিসচা আন্দোলনের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন বলে মনে করে সংগঠনটি।
মিরাজুল মইন জয় বলেন, নির্বাচনী ইশতিহারে দেয়া অঙ্গীকারগুলো যেন কেবল প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সরকার গঠনের পর তা দ্রুত বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। চালক প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স ব্যবস্থার সংস্কার, ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ, পথচারী নিরাপত্তা, সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং একটি শক্তিশালী সড়ক নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল প্রাণহানি কমানো সম্ভব।
নিরাপদ সড়ক চাই বিশ্বাস করে, রাজনৈতিক অঙ্গীকার যদি বাস্তব রূপ পায় এবং সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তবে বাংলাদেশে একটি মানবিক, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। নিসচা ভবিষ্যতেও দলমত নির্বিশেষে সকলের সঙ্গে কাজ করে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































