ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে দিল্লি বিমানবন্দরের হেনস্তা করা হয়। এ ঘটনা প্রসঙ্গে দিল্লি ব্যাখ্যা দেয়। তবে এ ব্যখ্যাকে অসন্তোষজনক আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে এ ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছে ঢাকা।
বুধবার (২৪ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ. কে. এম শহীদুল করিম বলেন, এ ঘটনা নিয়ে ভারতীয় পক্ষের দেয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয়।
তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) একটি বৈঠকে ডা. জাহেদ উর রহমান যে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন, সে বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে আগেই যথাযথভাবে জানানো হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, তা সত্ত্বেও দিল্লি বিমানবন্দরে তাকে (ডা. জাহেদ) নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে তা দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক।
চলতি মাসের শুরুতে আইওআরএর একটি বৈঠকে অংশ নিতে ভারতে প্রবেশকালে দিল্লি বিমানবন্দরে ডা. জাহেদ উর রহমানকে বাধা দেয়া হয়। ওই বৈঠকে তার বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিল।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি মন্তব্য সংক্রান্ত অন্য প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে, প্রতিটি রাষ্ট্রেরই তার ভূখণ্ডে বসবাসকারী সংখ্যালঘুসহ সব নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সমান দায়িত্ব রয়েছে।
আরও পড়ুন <<>> মুদি দোকান-বিউটি পার্লারসহ ১৬ ব্যবসায় ভ্যাট বসবে: অর্থমন্ত্রী
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যসহ সব নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দিল্লিতে সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. জাহেদের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, তিনি (বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা) গত ১৪ জুন এখানে এসেছিলেন ব্যক্তিগত পাসপোর্ট ও সার্ক ভিসা নিয়ে। তিনি ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন।
তিনি বলেন, তাকে দিল্লি বিমানবন্দরে অভিবাসন দপ্তরের কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার ভারতের আসার উদ্দেশ্য রিম অ্যাসোসিয়েশনের বৈঠকের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতিও দেয়া হয়। যদিও সেসময় তিনি ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
একইসঙ্গে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়িতে একটি মন্দির কমপ্লেক্সের অংশে রামের ৮১ ফুট উঁচু একটি মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক ছড়িয়েছে সে প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন জয়সওয়াল।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, বাংলাদেশ থেকে কিছু খবর এসেছে, কিছু হিন্দু দেবদেবীর সঙ্গে অপবিত্র ঘটনা ঘটেছে। যার কারণে সেখানে প্রতিবাদ হয়েছে। আমরা আশা করছি, বাংলাদেশের সরকার সেখানকার চরমপন্থি লোকজনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি নিশ্চিত করবে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































