Apan Desh | আপন দেশ

বৃক্ষমেলা শেষ, এখন মূল কাজ শুরু: পরিবেশমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ০০:২১, ১০ আগস্ট ২০২৬

বৃক্ষমেলা শেষ, এখন মূল কাজ শুরু: পরিবেশমন্ত্রী

ছবি: আপন দেশ

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি বলেছেন, জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও বৃক্ষরোপণ, পরিচর্যা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব শেষ হয়নি; বরং এখন থেকেই মূল কাজ শুরু।

রোববার (০৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনের হৈমন্তী মিলনায়তনে জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, মেলা থেকে নেয়া প্রতিটি চারা সঠিকভাবে রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তরুণ ও যুব সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন ২৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য সময়ের আগেই অর্জন করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলা শুধু চারা ক্রয়-বিক্রয়ের একটি আয়োজন ছিল না; এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততার একটি জাতীয় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এবারের মেলা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাফল্য অর্জন করেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন। দেশের পরিবেশ ও বন সংরক্ষণে সরকারের কার্যক্রম কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, ইতোমধ্যে তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

মন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ এবং নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রথম বছরেই পাঁচ কোটি চারা রোপণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যার মধ্যে বন অধিদফতর ৩ দশমিক ৫ কোটি গাছের চারা রোপন করবে।

তিনি বলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে ৩ দশমিক ৫ লাখের বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে যুবসমাজ, নারী ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে এ কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সারাদেশে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে প্রায় ২ দশমিক ৫ লাখ মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন <<>> জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

মন্ত্রী জানান, এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলায় মোট ৭৪টি নার্সারি অংশ নেয়। মাসব্যাপী মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা প্রায় ১৬ লাখ গাছের চারা কিনেছেন, যার মোট বিক্রয়মূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা। এ বিপুল সংখ্যক চারা বিক্রি এবং আর্থিক লেনদেন প্রমাণ করে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ছে এবং নার্সারি খাত ও বৃক্ষভিত্তিক অর্থনীতির সম্ভাবনাও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, তরুণ সমাজ ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ দেশের সবুজ অর্থনীতি গড়ে তোলার শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করছে।

মন্ত্রী সবাইকে মেলা থেকে সংগ্রহ করা চারাগুলো যথাযথভাবে রোপণ ও পরিচর্যার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি রোপিত চারার সুরক্ষা ও নিয়মিত পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরী।

সভাপতির বক্তব্যে প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরী বলেন, বৃক্ষরোপণে অধিক সংখ্যক মানুষকে সম্পৃক্ত করতে ভবিষ্যতে পুরস্কারের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। বর্তমান প্রজন্মকে গাছের সাথে অধিক সম্পৃক্ত হতে তিনি আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫-এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত রচনা, চিত্রাঙ্কন ও গাছ চেনা প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর নির্বাচিত স্টলমালিকদের পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বন অধিদফতর ও সংশ্লিষ্ট দফতর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী, নার্সারি ও স্টল মালিক, পরিবেশ ও বন খাতের অংশীজন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়