ছবি: আপন দেশ
সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে জনগণের ম্যান্ডেটকে অপমান করার অভিযোগ তুলে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (০১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সংবিধান সংস্কার-এর পক্ষে গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করে সরকার সংশোধন-এর প্রস্তাব দিয়েছে অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে জনমত নিয়ে ফের রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ গণভোটে রায় দিয়েছে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে, সংশোধনের জন্য নয়। কিন্তু সরকার জনগণের সে চূড়ান্ত রায়কে বেমালুম অগ্রাহ্য করে অপমান করেছে। এর প্রতিবাদেই আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি।
আরও পড়ুন<<>>জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কারে নামছে সরকার
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটের রায় অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একইসঙ্গে সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ-এর সদস্য হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী তাদের দুটি শপথ নেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সরকারি দলের সদস্যরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী গ্যাজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের সভা আহবান করার কথা থাকলেও সরকার তা করেনি। বাধ্য হয়ে আমরা স্পিকারের কাছে নোটিশ দিই। শেষ পর্যন্ত গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) আলোচনার সুযোগ দেয়া হলে আইনমন্ত্রী জনগণের সংস্কারের দাবিকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। আমরা তখনই বলেছি, সংস্কার আর সংশোধন এক জিনিস নয়। সরকার জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে প্রতারণা করছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে জনগণের ওপর যে ফ্যাসিবাদ চাপানো হয়েছিল, তার ছাঁদাকলে বিনা বিচারে ২ হাজার ৬৬৩ জন মানুষকে খুন করা হয়েছে। গুম হয়েছেন ২৫০ জনের বেশি মানুষ, যাদের খোঁজ আজও মেলেনি। আয়নাঘরের মতো ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করে মানুষকে ৮-৯ বছর বন্দি রাখা হয়েছে। সে অমানবিক ব্যবস্থা থেকে মুক্তির জন্যই জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান এবং সংবিধান সংস্কারের এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।
ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়েই আমরা ওয়াকআউট করেছি। তবে আমরা সংসদ ছেড়ে দিইনি। আমরা এখন আবার জনগণের কাছেই ফিরে যাবো। আমাদের ১১টি দলের জোট দ্রুতই বসে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে। জনগণের দাবি আদায়ে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনও পথ খোলা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































