Apan Desh | আপন দেশ

রাষ্ট্র তার নিজের প্রয়োজনেই জ্ঞানীদের সম্মানিত করে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১২:৩১, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১২:৫৯, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাষ্ট্র তার নিজের প্রয়োজনেই জ্ঞানীদের সম্মানিত করে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্র তার নিজের প্রয়োজনেই জ্ঞানীদের সম্মানিত করে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) একুশে পদক–২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

তারেক রহমান বলেন, ‘আজকের এই মহতী অনুষ্ঠানে এমন কিছু কৃতীমান ব্যক্তিত্ব উপস্থিত হয়েছেন, যারা শিক্ষা সংস্কৃতি শিল্পকলার বিভিন্ন শাখায় অবদান রেখে নিজ গুনে সমাদৃত হয়েছেন। আমি অনুষ্ঠানের শুরুতেই তাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। রাজনীতিবিদগণ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, জ্ঞানী গুণীজন দিক নির্দেশকের ভূমিকা পালন করে থাকেন। একটি রাষ্ট্র এবং সমাজে কৃতী মানুষদের সংখ্যা যত বেশি বাড়তে থাকবে সমৃদ্ধি এবং নৈতিকতার মানদণ্ডে সেই সমাজ ততবেশি আলোকিত হতে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘এই উপলব্ধি থেকেই স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করেছিলেন। এটি শুধু একটি পদকই নয়... বরং এই পদকের মধ্য দিয়ে ৫২ ভাষা আন্দোলন থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ঘটনাবলীগুলোকে স্মরণে আনার পাশাপাশি যেসব বিজ্ঞজন শিক্ষা সাহিত্য শিল্পকলা গবেষণা ও চর্চায় নিজেদের এবং রাষ্ট্র ও সমাজকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাদের সঙ্গে আপামর জনসাধারণের পরিচয় ঘটে।’

তিনি বলেন, “শুরুতে তিনটি বিষয়ে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পুরস্কার 'একুশে পদক' এর যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ সম্ভবত কমপক্ষে ১২টি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এই সম্মাননা দেয়া হচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক অর্জন। জ্ঞান-বিজ্ঞান কিংবা শিল্প সাহিত্য চর্চার ধারা আরো শানিত এবং বিকশিত হোক এই প্রত্যাশা করছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘শিক্ষা গবেষণা এবং শিল্প সাহিত্যের চর্চাকে আরো বেগবান করতে রাষ্ট্র এবং সরকার তার দায়িত্ব অবশ্যই পালন করবে। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষা গবেষণা এবং শিল্প সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়। শিক্ষা সাহিত্য শিল্পকলা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অর্থাৎ জ্ঞান বিজ্ঞানে সব শাখায় যাতে দেশ এগিয়ে যেতে পারে...নৈতিক মানসম্পন্ন তেমন একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষে বর্তমান সরকার কাজ করছে।
আমাদের এই যাত্রায় দেশের বিজ্ঞজনদের দিকনির্দেশনা অবশ্যই প্রত্যাশিত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জাতীয় ইতিহাসে ফেব্রুয়ারি মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। আর একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মপরিচয়ের স্মারক। বলা যায়, আমাদের সংস্কৃতিচেতনার প্রাণপ্রবাহ একুশে ফেব্রুয়ারি। একুশে ফেব্রুয়ারি একদিকে মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। অপরদিকে, এটি ছিল জালেমের বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। সুতরাং, ফেব্রুয়ারি মানেই আত্মপরিচয় উপলব্ধির মাস। আমাদের শেকড় সন্ধানী মাস। প্রতি বছরের মতো এ বছর আমরা দেশের জ্ঞানী-গুণী কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-ভাষাসংগ্রামীকে একুশে পদকে ভূষিত করেছি। জ্ঞানী গুণীদের কর্ম এবং কর্মময় জীবনের সঙ্গে আপামর জনগণের পরিচয় করিয়ে দেয়া রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘একুশ আমাদের অবিনাশী চেতনা, স্বাধিকার অর্জনের বীজমন্ত্র। এবার আমরা ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর অতিক্রম করে ৭৫ বছরে পদার্পণ করেছি। অমর একুশের ভাষা-শহিদদের স্মরণে প্রবর্তিত আজকের একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে ভাষা-সংগ্রামীদের স্মরণ করছি। আল্লাহ তাদের মৃত্যুকে শহীদি মৃত্যু হিসেবে কবুল করুন। আজ যারা একুশে পদকে ভূষিত হলেন, আপনাদের সবাইকে জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আপনাদের সৃজনমুখর জীবন আরও দীর্ঘ হোক, কল্যাণময় হোক, আল্লাহর দরবারে সেই প্রার্থনা করছি।’

আরও পড়ুন : ভিজিএফের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির ২ পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৪

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিশ্চয়ই একদিন বিশ্বসাহিত্যের জগতে আলো ছড়াবে. এমন গর্বিত দিনের প্রত্যাশা করছি।’

আপন দেশ/এনএম

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়