ব্রাজিল বনাম নরওয়ের ফটোকার্ড
আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বহুল পরিচিত দুইটি দেশ ব্রাজিল ও নরওয়ে। যাদের রয়েছে আলাদা ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও গৌরবময় ইতিহাস। সেসব কারণে বিশ্বজুড়ে তাদের সুনাম রয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলে তারা। এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে এরইমধ্যে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে রাউন্ড অব বত্রিশ জিতে শেষ ষোলোতে পৌঁছেছে দেশ দুইটি। আর এ নকআউট পর্বের বাঁচা মরার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে তারা।
ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত নরওয়ে, যেখানে মধ্যরাতেও সূর্যের দেখা পাওয়া যায়। ফলে বিশ্বজুড়ে এ দেশের পরিচিতি ‘নিশীথ সূর্যের দেশ’ হিসেবে। আরেকটি পরিচয় নোবেল শান্তির দেশ হিসেবে। প্রতি বছর বিশ্বের খ্যাতনামা ব্যাক্তিদের নোবেল শান্তি পুরস্কার দিয়ে থাকে দেশটি।
আরেকটি দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত ব্রাজিল। পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত আমাজন জঙ্গলের প্রায় ৬০ শতাংশই দেশটিতে অবস্থিত। ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় পরিচিতি এসেছে ফুটবলের কারণে। সর্বাধিক পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে সাম্বা খ্যাত দেশটি। তবে এবার ব্রাজিলের সামনে ভিন্ন পরীক্ষা। চলমান বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ নরওয়ে। যে দলের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত একবারও জয়ের দেখা পায়নি সেলেসাওরা।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাওয়া দুই দলের লড়াইয়ে তাই ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও বর্তমান ফর্ম; সবকিছুই ছড়াচ্ছে বাড়তি উত্তেজনা।
শেষ ৩২-এর ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে রাউন্ড অব-১৬ নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। অন্যদিকে একই ব্যবধানে আইভরি কোস্টকে বিদায় করে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়েও। ফলে ৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই দল।
আরও পড়ুন<<>>ইকুয়েডরের বিদায়, শেষ ষোলোয় মেক্সিকো
কাগজে-কলমে ব্রাজিল ফেবারিট হলেও অতীতের পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন গল্প। এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও নরওয়ে। সেখানে দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছে নরওয়ে, বাকি দুটি ড্র হয়েছে। অর্থাৎ নরওয়ের বিপক্ষে এখনো জয়হীন ব্রাজিল।
দুই দলের প্রথম দেখা হয় ১৯৮৮ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে। সেবার ১-১ গোলে ড্র করে তারা। এরপর ১৯৯৭ সালে আরেকটি প্রীতি ম্যাচে ৪-২ ব্যবধানে ব্রাজিলকে হারিয়ে চমক দেখায় নরওয়ে।
সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াইটি হয় ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে। ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল নরওয়ে। ওই ম্যাচে শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোল করেছিলেন কিয়েতিল রেকদাল। এরপর ২০০৬ সালে সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচেও ১-১ গোলে ড্র করে দুই দল।
এবারের নরওয়ে দলে আক্রমণের মূল ভরসা আর্লিং হলান্ড। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে জাতীয় দলের হয়ে নিজের গোলসংখ্যা ৬০-এ নিয়ে গেছেন এ তারকা ফরোয়ার্ড। তার সঙ্গে আছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আন্তোনিও নুসা, যিনি শেষ ম্যাচে অসাধারণ একক নৈপুণ্যে গোল করেছেন।
অন্যদিকে ব্রাজিলের আক্রমণে রয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, রদ্রিগো ও অভিজ্ঞ নেইমার। জাপানের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা উতরে আত্মবিশ্বাসী সেলেসাওরা এবার চাইবে নরওয়ের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে দীর্ঘদিনের অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান বদলে দিতে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































