ছবি: আপন দেশ
বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ আষাঢ় মাসের ১৯ তারিখ। প্রকৃতিতে চলছে বর্ষাকাল। এ সময় দেশে লাউ, চিচিঙ্গা, ঝিঙা, করলা, পটল, ঢেঁড়শ, কাঁকরোল, শসাসহ বিভিন্ন ধরণের শাক ভালো জন্মে। রাজধানীর বাজারে নতুন সবজি মিললেও দাম চড়া। এমন পরিস্থিতিতে মরার ওপর খরার ঘা হিসেবে চেপেছে চাল ও মুরগির বাড়তি দাম।
গেল কয়েক সপ্তাহ ধরেই কাঁচাবাজের খুব একটা স্বস্তি নেই। বিক্রেতারা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে অনেক সবজির উৎপাদন হয় না। যেগুলো উৎপাদিত হয় সেগুলোরও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বৃষ্টির কারণে। ফলে চাহিদার চেয়ে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এতেই দাম চড়ছে।
বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া প্রায় সব ধরনের চালের দামও বেড়েছে।মুরগি ব্যবসায়ীরা জানান, মুরগির সরবরাহ কম। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঠিকমতো বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে অনেকে খামারে নতুন করে ব্রয়লার মুরগি তোলা হয়নি। আবার অনেকে লোকসান এড়াতে মুরগি অল্প বড় হতেই বিক্রি করে দিয়েছেন। এ কারণে দাম বেড়েছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এদিন রাজধানীর কমলাপুর বাজারে প্রতি কেজি পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের মান ও জাতভেদে দাম ৬০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা হলেও দেশি শসার কেজি ১০০ টাকার বেশি।
এ ছাড়া গাজর ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, করলা ও উচ্ছে ৮০ থেকে বাজার ভেদে ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর লতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা এবং সজনের ডাঁটা ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শাকেও বর্ষার প্রতিফলন নেই। শাকের বাজারে দাম তুলনামূলক বেশি। কলমি শাকের আঁটি ১০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা, লাউশাক ৩০ টাকা, লালশাক ২০ টাকা এবং কচুশাক ১০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজারেও স্বস্তি নেই। দেশি চিকন চালের কেজি ৮৫ টাকা, মাঝারি মানের চিকন চাল ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা, পাইজাম চাল ৬০ টাকা এবং গুটি চাল ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারে গিয়ে দেখা য়ায় ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা, সোনালি ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড সোনালি ৩০০ টাকা, ডিমপাড়া লেয়ার ৩৪০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬২৫ থেকে ৬৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন<<>>স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে কত বাড়ল?
বর্ষাকালে মাছের সরবরাহ বেশি থাকলেও মাছের বাজারে তার প্রতিপলন নেই। কাঁচকি মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, পাবদা ৬০০ টাকা, বাইন ৮০০ টাকা, এক কেজির নিচের রুই ও কাতলা ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা এবং দুই কেজি ওজনের রুই-কাতলা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া সিলভার কার্প ২০০ টাকা, পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২২০ টাকা, গ্রাস কার্প ২০০ টাকা, কাতলা ৩৩০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৪০০ টাকা, আইড় ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা, সুরমা ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং দেশি কই ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ইলিশের বাজারে চড়া দাম বজায় রয়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ টাকা, ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট সাদা চিংড়ি ১ হাজার টাকা, মাঝারি গলদা ৮০০ টাকা এবং বড় সাদা চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজার আগের মতই আছে। এদিন দেখা যায় গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বকরির মাংস ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে ডিমের দাম আগের তুলনা কিছুটা কমেছে। এক ডজন সাদা ব্রয়লার মুরগির ডিমের দাম ১০০ টাকা আর ব্রাউন কালারের ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা ডজন ছিল।
পেঁয়াজের কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুনের দাম মানভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং আমদানি করা বড় রসুন ১৮০ টাকা কেজি। আদা বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে।
এদিকে বাজারে আলুর দাম কিছুটা বেড়ে প্রতি কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, বর্ষাকাল, পরিবহন ব্যয় এবং সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে।
মাহমুদুল হাসান নামে এক ক্রেতার অভিযোগ, আয় না বাড়লেও প্রতিনিয়ত বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। ফলে সংসারের খরচ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে।
তিনি বলেন, বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকলে সাধারণ মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যায়।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































