ছবি : সংগৃহীত
বৃষ্টির শব্দ শুনতে কার না ভালো লাগে! বৃষ্টি অনেকের কাছেই প্রশান্তি, ভালোবাসা আর রোমান্টিক অনুভূতির প্রতীক। তবে কিছু মানুষ আছেন যাদের কাছে বৃষ্টি মানে বিষণ্নতা, ক্লান্তি, একাকিত্ব কিংবা মন খারাপের অনুভূতি।
বৃষ্টির দিনে এ মন খারাপ থাকার কারণ খুঁজেছেন একদল গবেষক। চলুন দেখে নেয়া যাক এ ভীষন্নতার কারণগুলি:
মেঘলা আকাশ বা দীর্ঘ সময় সূর্যালোকের অভাবে অনেক মানুষ হতাশা ও বিষণ্নতার লক্ষণ বেশি অনুভব করেন। এ অবস্থাকে সাধারণভাবে ‘রেইনি ডে ব্লুজ’ বলা হয়।
তবে এর অর্থ এ নয় যে বৃষ্টি নিজেই বিষণ্নতার কারণ। বরং বৃষ্টির আবহাওয়া অনেক সময় আমাদের মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। আগে থেকে থাকা বিষণ্নতা বা ‘সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার’-এর লক্ষণগুলোকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
মনোবিদদের মতে, বৃষ্টির দিনে মন খারাপের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।
১. সিজনাল ডিপ্রেশন বা ঋতুভিত্তিক বিষণ্নতা: সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার (SAD) এক ধরনের মানসিক সমস্যা, যা বছরের নির্দিষ্ট সময়ে— বিশেষ করে শীতকাল বা দীর্ঘ সময় মেঘলা আবহাওয়ায়— বেশি দেখা যায়। এসময় অনেকেই অকারণে মনমরা, ক্লান্ত ও অনুৎসাহী অনুভব করেন।
২. সূর্যালোকের অভাব: সূর্যের আলো আমাদের শরীরে সেরোটোনিন নামের একটি রাসায়নিকের উৎপাদনে সহায়তা করে, যা ভালো মেজাজ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মেঘলা দিনে সূর্যালোক কমে গেলে সেরোটোনিনের মাত্রাও কমে যেতে পারে।
এছাড়া মেলাটোনিন হরমোনের স্বাভাবিক উৎপাদনেও পরিবর্তন আসে, ফলে ঘুমের রুটিন বিঘ্নিত হয়। পর্যাপ্ত বা নিয়মিত ঘুম না হলে মানসিক অবসাদ আরও বেড়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন <<>> আজ ফ্যাশন সচেতন মানুষদের দিন
৩. জলবায়ু পরিবর্তনজনিত উদ্বেগ: অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, বন্যা, জলাবদ্ধতা কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যান্য প্রভাব অনেক মানুষের মনে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত বা আবহাওয়ার চরম পরিবর্তন বেশি ঘটে, সেসব এলাকায় হতাশা ও উদ্বেগের হারও তুলনামূলকভাবে বেশি।
৪. ঘরবন্দি জীবন ও একঘেয়েমি: বৃষ্টির কারণে বাইরে হাঁটাহাঁটি, খেলাধুলা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কমে যায়। দীর্ঘ সময় ঘরে বন্দি থাকলে একঘেয়েমি, অলসতা ও একাকিত্ব তৈরি হতে পারে, যা মন খারাপের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
আপন দেশ/এসএস




































