Apan Desh | আপন দেশ

ইরানে পানির পাম্পে মার্কিন হামলায় হতাহত ৫

আন্তজাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ০৯:৪৭, ১৩ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ১০:৪৯, ১৩ জুলাই ২০২৬

ইরানে পানির পাম্পে মার্কিন হামলায় হতাহত ৫

ছবি সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইরানের মাহশাহর শহরের একটি পানির পাম্পে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বিমান বাহিনী। এ হামলায় একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। 

সোমবার (১৩ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

খুজেস্তান প্রদেশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মাহশাহরের একটি কৃষি পানি পাম্পিং স্টেশনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এতে একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।

দেশটির নিরাপত্তা ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ডেপুটি গভর্নর ভালিওল্লাহ হায়াতি বলেন, হামলাটি আজ ভোরে সংঘটিত হয়েছে। নিহত ব্যক্তি ওই স্থাপনার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, জরুরি ও চিকিৎসাসেবা বিভাগের কর্মীরা আহতদের চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ করছেন।

এদিকে ইরানে নতুন করে আরও এক দফা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস, সিরিক, জাস্ক ও কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। জবাবে কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণের কথা জানিয়েছে তেহরান।

রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে ইরানি বার্তাসংস্থা মেহের ও ফার্স নিউজ এ তথ্য জানায়। তবে বিস্ফোরণের কারণ এখনো জানা যায়নি বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থাগুলো।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, ইরানের কয়েক ডজনের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে ইরানি সামরিক বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার সাইট, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা ও আইআরজিসির ছোট স্পিডবোট।

সেন্টকম জানায়, হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান, নৌযান, ওয়ান-ওয়ে এরিয়াল অ্যাটাক ড্রোন ও ওয়ান-ওয়ে  সি অ্যাটাক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে প্রথমবারের মতো।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে নতুন দফায় মিসাইল ও ড্রোন ছুড়েছে ইরান। মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে এ খবর জানিয়েছে করেছে দেশটির এলিট ফোর্স ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

আরও পড়ুন<<>>হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা ইরানের

মধ্য ও দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বাহিনীর কয়েক ঘণ্টার বিমান হামলার পর তেহরানের পক্ষ থেকে এ পাল্টা আক্রমণের ঘোষণা এল।

ইরানের নূর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানি সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি যৌথভাবে ওই অঞ্চলে অবস্থিত 'শত্রু ঘাঁটি'গুলোর ওপর 'ব্যাপক আকারে মিসাইল ও ড্রোন হামলা' শুরু করেছে। 

আইআরজিসি বলেছে, তারা জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে ওই ঘাঁটির কয়েকটি জ্বালানি ডিপো ও গোলাবারুদ মজুতের স্থাপনায় আগুন ধরে গেছে।

এক বিবৃতিতে আইআরজিসি একে ইরানের উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন হামলার প্রথম ধাপের জবাব বলে উল্লেখ করেছে।

এছাড়া বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির বেশ কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলেও জানিয়েছে আইআরজিসি।

এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের বিমানবাহিনী শেখ ইসা বিমানঘাঁটির হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনা, পি-৮ বিমান রাখার একটি হ্যাঙার ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি ড্রোন কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে হামলা চালিয়েছে।

এছাড়া কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে জ্বালানি ট্যাংক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে গুরুত্বপূর্ণ এফপিএস রাডার সিস্টেম 'সম্পূর্ণ ধ্বংস' করে দেয়ার দাবি করেছে আইআরজিসি।

আইআরজিসি আরও বলেছে, 'ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে অবৈধভাবে' হরমুজ পার হওয়ার সময় দুটি জাহাজকে তাদের নৌবাহিনী থামানোর পর মার্কিন বাহিনী ইরানজুড়ে নতুন করে হামলা শুরু করে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement

জনপ্রিয়