ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফা শান্তি উদ্যোগের আলোচনা চলছে, অন্যদিকে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরব, কুয়েত ও ইসরায়েলসহ একাধিক দেশ চাপে পড়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।
সৌদি আরব জানিয়েছে, দেশের পূর্বাঞ্চলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যে বলা হয়েছে, প্রথমে ছয়টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়। এরপর ৪০ মিনিটের মধ্যে আরও ৯টি এবং পরে একই এলাকায় আরও ১১টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। তবে এসব হামলার উৎস বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
অন্যদিকে কুয়েত জানিয়েছে, তারা ‘শত্রুপক্ষের’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব দিচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনী নাগরিকদের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহবান জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের শব্দ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা প্রতিহত করার ফল।
কুয়েত ন্যাশনাল গার্ড জানায়, তারা দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর আগে ড্রোন হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগে। চলমান সংঘাতে এটি ওই বিমানবন্দরে তৃতীয় হামলা।
গত সপ্তাহের আরেক হামলায় বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে দেশটির সব ফ্লাইট সৌদি আরবে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গত রাতে কুয়েতে ১২-১৩ বার সতর্ক সংকেত বেজেছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এসময় ১৩টি ড্রোন ও ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই তীব্র হলেও, মানুষ কূটনৈতিক সমাধানের আশা করছে।
জর্ডানের রাজধানী আম্মানের দক্ষিণে জনবিরল এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে। এতে হতাহত বা বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে শত শতবার এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলেও উত্তেজনা বেড়েছে। লেবানন থেকে ছোড়া একটি প্রজেক্টাইলের পর কিরিয়াত শমোনা শহর ও আশপাশে সাইরেন বেজে ওঠে। একটি নির্মাণাধীন বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
আরও পড়ুন <<>> যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
এর আগে ইরান ও হিজবুল্লাহর হামলায় উত্তর ইসরায়েলে একজন নিহত হন। এছাড়া তেল আবিবের কাছে বেনি ব্রাক ও গিভাত শমুয়েল এলাকায় অন্তত ১২ জন আহত হন। ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের সতর্কতায় মধ্য ইসরায়েলজুড়েও সাইরেন বেজে ওঠে।
বাহরাইনেও হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার আহবান জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































