ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। তেল ও গ্যাস স্থাপনাকে ঘিরে সরাসরি সতর্কবার্তা, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। এতে পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনার আশপাশে বসবাসকারীদের দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, কোনো বিলম্ব না করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে হবে।
বুধবার (১৮ মার্চ) ভোরে সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্রগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনাটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক বিবৃতিতে বলেন, চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের হামলা ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’।
তিনি জানান, সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রটি কাতারেরনর্থ ফিল্ডের এর সম্প্রসারিত অংশ। ফলে এ স্থাপনায় হামলা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা শুধু আঞ্চলিক জনগণের জন্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং পরিবেশের জন্যও বড় ধরনের হুমকি তৈরি করে।
আরও পড়ুন <<>> ইসলামবিদ্বেষে ‘জিরো টলারেন্স’ আহবান চীনের
ইরানের আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হামলার পর সৃষ্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নতুন করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এসব হামলা প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া বার্তায় ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইল বার্তার মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে এমন উত্তেজনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারসহ বৃহত্তর অর্থনীতিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































