ফাইল ছবি
এবার ন্যাশনাল ব্যাংককে ফের ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিল রাষ্ট্রায়ত্ব সোনালী ব্যাংক। আর বড় অঙ্কের এ টাকার মধ্যস্থতাকারী বাংলাদেশ ব্যাংক। দুর্দশাগ্রস্থ ন্যাশনাল ব্যাংক এটা টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে দায় নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটি বর্তমান সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী পরিবারের নিয়ন্ত্রণাধীন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ১০ শতাংশ সুদে এ পরিমাণ টাকা ধার দেয় সোনালী ব্যাংক।
আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে আমানতকারীকে চাহিদা মতো অর্থ তুলতে ন্যাশনাল ব্যাংকে নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারল্য সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংক যাতে আগামী ১৫ তারিখ থেকে অমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে পারে সেজন্য অর্থের যোগান দিল সোনালী ব্যাংক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো টাকা ধার দেয়নি। কিন্তু কোনো ব্যাংক যদি সমস্যায় পড়ে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা চায় তাহলে তো আমরা তাকে ফেলে দিবো না। চাহিদা মত ন্যাশনাল ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ যেনো তুলতে পারে সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে। এখন ন্যাশনাল ব্যাংক অর্থ সংগ্রহ করবে। কোথা থেকে করবে সেটা তারা (ন্যাশনাল ব্যাংক) ঠিক করবে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা থাকতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, সোনালী ব্যাংক যে অর্থ দিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংকে তাতে তিন মাসের গ্যারান্টি রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। তিন মাসের মধ্যে এ অর্থ ফেরত দিতে হবে ন্যাশনাল ব্যাংকে। গভর্নরের নির্দেশনায় দুই ব্যাংকের মধ্যে সমঝোতা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অর্থাৎ কোনো কারণে ন্যাশনাল ব্যাংক অর্থ ফেরত দিতে না পারলে সোনালী ব্যাংকের টাকা ফেরত দিবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তিন মাসের জন্য ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান।
আরও পড়ুন <<>> ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা
তিনি বলেন, টাকার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টি আছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের তাৎক্ষণিক তারল্যের চাহিদা মেটানো ও ব্যাংক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১০ শতাংশ সুদের হারে দেয়া টাকাটা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টি আছে। ন্যাশনাল ব্যাংক যদি অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিশোধ করবে। এ নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই।
এর আগেও সোনালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে ন্যাশনাল ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংককে ৩ হাজার বিলিয়ন টাকার তারল্য সহায়তা দিয়েছিল।
গত ৮ অক্টেবার বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেলিতা মেহজাবীন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেন।
সে সভার বিষয় জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছিল, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে আমানতকারীরা যাতে তাদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন করতে পারে, সে লক্ষ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি'র সকল শাখা, এটিএম বুথে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্যও নির্দেশনা প্রদান করেন গভর্নর।
সারা দেশে ব্যাংকটির ২৮৫টি শাখা রয়েছে। গভর্নরের এমন নির্দেশনা জন সম্মুখে এলে গত সোমবার পর্যন্ত ব্যাংকটিতে আমানত তুলে নিতে সাড়ে ৪ হাজার আবেদন জমা পড়ে।
আর্থিক অনিয়মে দুর্দশাগ্রস্ত ন্যাশনাল ব্যাংকের তারল্য সংকটে নতুন নির্মাণ করা প্রধান কার্যালয়ে উঠতে পারেনি। বিশেষ বিবেচনায় ব্যাংক কোম্পানি আইনে ছাড় নিয়ে গত জুলাই থেকে প্রধান কার্যালয় ভাড়া দেয়। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকও সহযোগিতা করে।
অর্থপাচার, অনাদায়ী খেলাপী ঋণের চাপ ও অর্থলুটপাটে লোকসানে যায় এক সময়ের লাভজনক ব্যাংকটি। সবশেষ অনীরিক্ষীত প্রতিবিদেন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটি লোকসান গুনে ২ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা। এই সময়ে শেয়ার প্রতি লোকসান গুণে ৭ টাকা ১০ পয়সা।
২০২৫ সালের এ সময়ে লোকসান ছিল শেয়ার প্রতি ৩ টাকা ৬ পয়সা ও মোট লোকসান ছিল ৯৮৫ কোটি টাকা
ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার বেড়ে এখন ৬৫ দশমিক ৭৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এজন্য গত জুন মাস শেষে প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি বেড়ে ২৩ হাজার ৩২৬ কোটি টাকায় পৌঁছায়।
আপন দেশ/এবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































