ছবি : সংগৃহীত
ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এ ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ।
গালফ নিউজের তথ্যমতে, ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। মূলত এ হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ০২ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৪১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৫৬ ডলার।
এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে বহুল ব্যবহৃত আবুধাবির প্রধান রফতানিযোগ্য গ্রেড মুরবান ক্রুডের দাম সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৫৭ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ২২০ ডলারে পৌঁছায়।
এর আগে বুধবার (০৮ জুলাই) রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একমাত্র মহাসাগরীয় বন্দর চাবাহারে সামরিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো বা আন্তর্জাতিক নৌপথে হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কায় বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
তাদের মতে, পারস্য উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের মধ্যে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে। এ কারণেই এশিয়ার দেশগুলোতে ব্যবহৃত মুরবান ক্রুডের দামে তুলনামূলক বেশি ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
আরও পড়ুন : কুয়েত–বাহরাইনে পাল্টা হামলা ইরানের
বাজার বিশ্লেষকদের জানান, এখন বিনিয়োগকারীদের প্রধান নজর রয়েছে—ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি হয় কি না। এসব বিষয়ের ওপর আগামী কয়েক দিনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের গতিপ্রকৃতি অনেকটাই নির্ভর করবে।
আপন দেশ/এনএম
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































