Apan Desh | আপন দেশ

বাণিজ্য ঋণের ৫০ শতাংশই খেলাপী: বিআইবিএম গবেষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ২০:৫৯, ৮ জুলাই ২০২৬

বাণিজ্য ঋণের ৫০ শতাংশই খেলাপী: বিআইবিএম গবেষণা

ফাইল ছবি, আপন দেশ

বাণিজ্য খাতে করা অর্থায়নের(ট্রেড ফাইন্যান্স) ৪০ থেকে ৫০ শতাংশই খেলাপী হয়ে পড়েছে বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে।

অন্যদিকে যেসব ব্যাংকের সার্বিক খেলাপী যতো বেশি, ট্রেড ফাইন্যান্সে তাদের খেলাপী ঋণের হার তার চেয়েও বেশি।

বুধবার (০৮ জুলাই) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত এক কর্মশালায় গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবীব বলেন, ব্যাংকগুলোর ট্রেড ফাইন্যান্স সংক্রান্ত খেলাপি ঋণের হার বর্তমানে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। যেসব ব্যাংকে সামগ্রিক খেলাপি ঋণের হার বেশি, সেসব ব্যাংকে ট্রেড ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ৮০ শতাংশেরও বেশি।

ব্যবসায় চলতি মূলধন যোগানো, রফতানি খাতে বিনিয়োগ ও স্থানীয় পর্যয়ে ভোক্তাদের জন্য আমদানি করা পণ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে পণ্য বা সেবা ক্রয়-বিক্রয়ে যে অর্থায়ন করা হয় তা ট্রেড ফাইন্যান্স।

গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় মূলধনী যন্ত্রপাতি, তুলাসহ বিভিন্ন কাঁচামাল আমাদানি, চিনি ও সারজাতীয় পণ্য, জ্বালানি এবং স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানিসংক্রান্ত ট্রেড ফাইন্যান্সে ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর সঙ্গে বেড়েছে খেলাপীর পরিমাণও। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি রফতানি খাতের ট্রেড ফাইন্যান্সেও খেলাপী বাড়ছে। 

আরও পড়ুন<<>>একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীরা অর্থ ফেরত পাবেন: অর্থমন্ত্রী

আহসান হাবিব আরও বলেন, গবেষণায় রফতানি অর্থায়নের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়। মতামত জরিপে প্রায় সব ব্যাংকারই মনে করে, আইনগতভাবে কার্যকর ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি  ছাড়া ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ব্যবহারের ফলে রফতানি অর্থায়নে খেলাপি ঋণ সৃষ্টি হচ্ছে।

গবেষণা পত্রে উল্লেখ করা হয়, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি (ঋণপত্র) মূলত রফতানির প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য। কিন্তু দুর্বল চুক্তি, বিতর্কিত বা আইনগতভাবে কার্যকর না এমনভাবে অর্থায়ন প্রক্রিয়া ঝুঁকির মুখে পড়ে।

এর ফলে রফতানি আয় সময়মতো না আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়। অর্থ আদায় না হলে ব্যাংকের ট্রেড ফাইন্যান্স জোরপূর্বক ঋণে (ফোর্সড লোন) পরিণত করতে হয় ব্যাংকগুলোকে। তাতে ব্যাংকের সার্বিক খেলাপী বৃদ্ধি পায়।

ব্যাক টু ব্যাক এলসি গুণগত মানের না হওয়ায় ট্রেড ফাইন্যান্সেও খেলাপী ঋণ নিয়মিত বাড়ছে। এজন্য ট্রেড ফাইন্যান্স প্রক্রিয়া আধুনিক করার সুপারিশ করেন আহসান হাবিব।

সভাপতির বক্তব্যে বিআইবিএমের মহাপরিচালক এজাজুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রমকে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও কাগজবিহীন করতে ইলেকট্রনিক ট্রেড ডকুমেন্টের জন্য আধুনিক আইনগত ও ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

যৌথ গবেষণায় আরও ছিলেন বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক রাহাত বানু, প্রভাষক রাজিব কুমার দাস, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আরাফাত আলী ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এটিএম. নেছারুল হক।

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে ছিলেন বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ও এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুর রহমান, প্রাইম ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাজ্জাদ হায়দার চৌধুরী ও সিটি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ।

আপন দেশ/এসআর
 

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়