Apan Desh | আপন দেশ

সবজি নাগালেই, চাল-ডালের দাম বাড়তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১২:৩১, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১২:৩৪, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

সবজি নাগালেই, চাল-ডালের দাম বাড়তি

ছবি : আপন দেশ

দেশজুড়ে বয়ে চলেছে শৈত প্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডা বাতাসে পর্যুদস্ত জনজীবন। শীতের এ ভরা মৌসুমে কাঁচাবাজার ভরপুর নানা জাতের সবজিতে। প্রচুর সরবরাহ থাকায় কিছুটা উঠা-নামা করলেও মোটামুটি নাগালের মধ্যেই রয়েছে দাম। ডিম, মুরগি ও মাছের দাম স্থিতিশীল। তবে হুট করেই বেড়েছে চালের দাম। ঊর্ধ্বমূখী মুগ ডাল, ছোট মসুর ডাল ও চা-এর দামও।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। 

রাজধানীর কমলাপুর বাজারে আসা ক্রেতারা জানান, এখন শীতের সবজি কিনে স্বস্তি পাচ্ছেন তারা। কারণ, শীত মৌসুমের সবজির সরবরাহ বেশি, দামও কম। বেশির ভাগ সবজির দামই ৫০-৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে। তবে টমেটোর দাম এখনও বেশি। এদিন সবজির বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি মুলা ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং শালগম ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোল ও লম্বা বেগুনের দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত কমে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় নেমেছে। এ ছাড়া শিম ও মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকায় মিলছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও করলা ৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যান্য পণ্যের মধ্যে দেশি গাজরের কেজি ৪০ টাকা, কাঁচকলার হালি ৪০ টাকা ও ছোট সাইজের প্রতিটি লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পাকা টমেটোর কেজি এখনো ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় মিলছে। বাজারে মটরশুঁটির দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত কমে ১০০ টাকায় নেমেছে।

বাজারে এখন নতুন মৌসুমের মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি। পাশাপাশি ভারত থেকে আমদানি করা এবং দেশীয় পুরোনো পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ৬৫-৭০ টাকা। আর দেশি পুরোনো পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেশি; প্রতি কেজি ৮০-৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে বাজারে সব ধরনের মিনিকেট চালের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল ৮৩ থেকে ৮৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ৮০ টাকা। রশিদ মিনিকেটের দাম ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা হয়েছে। নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেটের দাম ছিল ৬৫ টাকার আশপাশে, সেটি বেড়ে হয়েছে ৭০ টাকা। আর দামি মিনিকেট মোজাম্মেলের দাম কেজিতে ১-২ টাকা বেড়ে ৮৫-৮৬ টাকা হয়েছে।

আরও পড়ুন<<>>সবজি-পেঁয়াজে স্বস্তি, চিনির বাজারে অস্থিরতা

বাজারে দেশীয় ও আমদানি করা উভয় ধরনের নাজিরশাইল চাল রয়েছে। ধরনভেদে দেশি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে। সপ্তাহখানেক আগে যা ৩-৪ টাকা কম ছিল। আর আমদানি করা নাজিরশাইলের কেজি রাখা হচ্ছে ৭৫-৭৮ টাকা। গত সপ্তাহে এ চালের দাম ছিল কেজিতে ৭২-৭৫।

চালের পাশাপাশি বেড়েছে ছোট দানার মসুর ও মুগ ডালের দাম। উভয় ধরনের ডালের দাম কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে। তবে মোটা মসুরের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে হয়েছে ৯০ টাকায়। বাজারে চা-এর দামও বেড়েছে।

বিক্রেতারা জানান, শীতের মধ্যে চা-এর চাহিদা বেড়ে যায়। এ সময় কোম্পানিগুলো কেজিতে ৬০-৭০ টাকা দাম বাড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে খোলা চিনির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা হয়েছিল। এ দামেই চিনি বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে গত সপ্তাহের মতো প্রতি ডজন ফার্মের বাদামি রঙের ডিম ১০৫-১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লারের কেজি ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা আর সোনালি জাতের মুরগির কেজি কেনা যাচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়। প্রতিকেজি গরুর মাংস মিলছে ৭৫০-৮০০ টাকায়।

মাছের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। এদিন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিকেজি পাঙাশ ১৭০-২০০ টাকায়, পাবদা ৪০০-৫৩০ টাকায়, কৈ মাচ ২৫০-৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি রুই ৩২০-৪২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৮০ টাকা, কাতলা ৩৪০-৪৪০ টাকা, শিং ৩৪০-৬৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়