ফাইল ছবি।
কে হচ্ছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান। তার সঙ্গে আরও দুইজন কমিশনার হিসেবে থাকছেন কারা?
আমলাপাড়া, বিচারালয়, সশস্ত্রবাহিনী ও সুধী মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা। দুর্নীতিবাজরাও নড়েচড়ে বসছেন। জানার চেষ্টা করছেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের নয়া নেতৃত্বের নাম।
গণঅভূত্থানের তোড়ে পালিয়েছে আওয়ামী সরকার। তাদের মাথার ওপর লাখোকোটি টাকার দুর্নীতি আর হাজার মানুষ হত্যার দায়। মৃত্যুদণ্ড নিয়ে প্রতিবেশী দেশে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন রাষ্ট্র পরিচালনা করছে বিএনপির নেতৃত্বধীন নয়া সরকার। এর আগে ছিল ড. ইউনূসের অন্তরবর্তী সরকার। এ তিন সরকারের অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়তে হবে দুদকের হবু চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের। দুর্নীতিবিরোধীরা তাকিয়ে আছে সাহসী তিন ব্যক্তির দিকে। তাদের কাছে প্রত্যাশাও তেমনই।
দুদকের এ দায়িত্বপালনের জন্য ইতোমধ্যে ৩২৭জন দরখাস্ত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত আমলা, অবসরপ্রাপ্ত দুদক কর্মকর্তা, সশস্ত্রবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য, আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, উচ্চ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, শিক্ষক এবং সাংবাদিক।
আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হক নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের ‘সার্চ কমিটি’র কাছে এসব দরখাস্ত এবং জীবন বৃত্তান্ত জমা পড়েছে। কমিটি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছেন এসব তথ্য।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, আবেদনকারীদের মধ্যে অধিকাংশই প্রশাসন ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এর মধ্যে নাম জানা গেছে কয়েক জনের। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আব্দুল্লাহিল বাকী, অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব এএসএম আব্দুল হালিম জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন বলে জানা যায়। এর মধ্যে আব্দুল্লাহিল বাকী প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লার সহোদর।
এ.এস.এম. আব্দুল হালিম অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব। বিএনপিপন্থি আমলা হিসেবে পরিচিত আব্দুল হালিম একাধারে একজন লেখক, রাজনীতিবিদ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির টিকিটে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আাসন থেকে এমপি নির্বাচন করেছিলেন। বিজয়ী হতে পারেননি। আব্দুল হালিমের কন্যা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ইসমেত জাহান দুদকে উপ-পরিচালক হিসেবে প্রেষণে কর্মরত ছিলেন।
আরও পড়ুন <<>> পালাচ্ছে বসুন্ধরা
বেশ কয়েকজন দুদক কর্মকর্তাও আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সংস্থাটির অবসরপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. সহিদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন, ডিজি’র চলতি দায়িত্ব পালনকারী একেএম আমিরুল আলম, অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক মো. আবুল হাসান ও সাবেক উপ-পরিচালক মো. আহসান আলীর নাম জানা গেছে।
আইনজীবীদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা (ব্যারিস্টার ) এম. সারোয়ার হোসেনের নাম জানা গেছে। তিনি এখনও দুদকের প্যানেল আইনজীবী।
এছাড়া হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপিল বিভাগের অন্ততঃ তিন জন বিচারক আবেদন করেছেন। অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজ এবং অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম জেলা জজও আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন।
একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং একটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকও আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।
সার্চ কমিটি সূত্র জানা গেছে, দুদক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সংস্থাটিতে কমিশনার এবং চেয়ারম্যান পদের জন্য আগ্রহী অন্তত ৩২৭টি আবেদন জমা পড়েছে। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন <<>> রূপালী লাইফের দুর্নীতি: ২৮ কোটি ভুয়া আয়, ৩২ কোটি গোপন ব্যয়
বুধবার (১৫ জুলাই) পর্যন্ত সার্চ কমিটির ২টি বৈঠক হয়। বৈঠকে সার্চ কমিটির সদস্যগণ এখন এসব আবেদন ও জীবন বৃত্তান্ত থেকে ‘উপযুক্ত’ ব্যক্তিদের বাছাই করছেন। বাছাই শেষে তাদের মধ্য থেকে ‘যোগ্য’ অন্ততঃ ৬ জন ব্যক্তির নাম প্রেসিডেন্টের কাছে নিয়োগ দানের সুপারিশ করবেন।
প্রেসিডেন্ট তাদের মধ্য থেকে তিনজনকে কমিশনার এবং একজন কমিশনারকে ‘চেয়ারম্যান’ নিয়োগ দেবেন।
মোহাম্মদ আবদুল মোমেন নেতৃত্বাধীন কমিশন গত ৩ মার্চ পদত্যাগ করার পর থেকেই সংস্থাটির শীর্ষ তিনটি পদ শূন্য। এতে দুদকের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন অভিযোগের অনুসন্ধান ও মামলার অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো ঝুলে আছে। দুর্নীতিবাজ ও অর্থপাচারকারীরা দেশত্যাগ করলেও সেটি রোধকল্পে আইনি পদক্ষেপ নিতে আইনজীবীও নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না।
স্বশাসিত স্বাধীন সংস্থাটির অচলাবস্থার অবসানে গত ২২ জুন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হককে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মোবাশ্বের মোনেম ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
আরও পড়ুন <<>> ১৩ হাজার কোটি টাকা চুরি করেও রেলে আফজালের ডিজিগিরি!
আইন অনুসারে দুদক কমিশনার ও চেয়ারম্যান হিসেবে তারাই নিয়োগযোগ্য হবেন, যাদের আইন, শিক্ষা, প্রশাসন, বিচারে বা শৃঙ্খলা বাহিনীতে অন্যূন ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তবে সরকারি চাকরিরত কেউ এ নিয়োগে অযোগ্য বিবেচিত হবেন। এছাড়া বাংলাদেশের নাগরিক নন, ঋণখেলাপি, দেউলিয়া, নৈতিক স্খলন কিংবা দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত, শারীরিকভাবে অক্ষম, কর্মজীবনে বিভাগীয় মামলায় গুরুদণ্ডে দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি দুদকে নিয়োগে অযোগ্য বিবেচিত হবেন।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































