ফাইল ছবি, আপন দেশ
ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। এ বিষয়ে বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’কে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট।
ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, করপোরেট সুশাসন লঙ্ঘন ও আইনভঙ্গের অভিযোগ জানিয়েছে আবেদনকারীরা।
বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) ২৬ অক্টোবরের মধ্যে অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হবে। নিষ্পত্তির প্রতিবেদন হলফনামার মাধ্যমে হাইকোটে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি ম্যাটার নং-৭১৮/২০২৬ মামলায় ৯ জুলাই বিচারপতি মো. তৌফিক ইনামের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের বিষয়ে ৩০ জুন আইডিআরএতে জমা দেয়া অভিযোগ আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। পরে এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে আইডিআরএ।
আরও পড়ুন<<>>রূপালী লাইফের দুর্নীতি: ২৮ কোটি ভুয়া আয়, ৩২ কোটি গোপন ব্যয়
মামলার শুনানিতে আদালত আবেদনকারীদের সম্পূরক হলফনামাকে মূল আবেদনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়েছে।
যেন আবেদন গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা ব্যাখ্যা দিতে পারেন। মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য চলতি বছরের ২৭ অক্টোবরের কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে।
এর আগে ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্যোক্তা পরিচালক জি.বি. হোসেন আইডিআরএর কাছে একটি অভিযোগ দাখিল করেন।
তিনি দাবি করেন, ২০১২ সাল থেকে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম হচ্ছে। সুশাসনেরও ঘাটতি রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই কিছু উদ্যোক্তা পরিচালককে অপসারণ, একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করা, অতিরিক্ত শেয়ার ধারণ, কোম্পানির অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, বোর্ড সভা ও মিটিং ফি সংক্রান্ত অসঙ্গতি, আর্থিক প্রতিবেদনে সমস্যা এবং শরিয়াহ কাউন্সিলের কার্যক্রমে ঘাটতির মতো বিষয় রয়েছে।
এছাড়া বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব বিষয়ে তদন্ত, পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, অপসারিত উদ্যোক্তা পরিচালকদের পুনর্বহাল এবং ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আর্থিক কার্যক্রমের ফরেনসিক অডিটের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে আদালত এখনো অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।
এ বিষয়ে আবেদনকারীদের পক্ষে নিয়োজিত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তনয় কুমার সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিমা শিল্পে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হোক, আন্তরিকভাবে আমি এটাই প্রত্যাশা করি।
বিমা খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতের এ নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের বিমা খাতে কর্পোরেট সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































