Apan Desh | আপন দেশ

‘ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ শয্যা রাখার নির্দেশ’

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১৮:৫৬, ১৫ জুলাই ২০২৬

‘ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ শয্যা রাখার নির্দেশ’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, আপন দেশ

সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বাত্মক  প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়াও পর্যাপ্ত কিট ও স্যালাইন মজুতে রাখা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এমপি মো. নুরুল ইসলামের উত্থাপিত নোটিশের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন আট হাজার ৯৭৮ জন এবং মারা গেছেন ২৮ জন।

যেখানে গত বছর (২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত হিসেবে) আক্রান্ত ছিলেন ১৫ হাজার ২১০ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৮ জনের। 

মন্ত্রী বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী গতবারের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু অর্ধেকেরও কম। তবে আমরা এতে আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। যেহেতু মানুষ এখনো আক্রান্ত হচ্ছে। 

আরও পড়ুন<<>>শেখ হাসিনাসহ ১০ শিল্প গ্রুপের সম্পদ জব্দ

তিনি জানান, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু এনএসওয়ান পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। এছাড়া আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে এক লাখ ৬ হাজার ৬০০ কিট মজুত আছে। আগামী এক মাসে আরও পাঁচ লাখ কিট যোগ হবে। পাশাপাশি এক লাখ অতিরিক্ত স্যালাইন ব্যাগ বিশেষ রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দেড় মাস আগেই বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেন মোট বেডের ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য খালি রাখা হয়। একইসঙ্গে সরকারি রেটেই যেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সে ব্যাপারে তারা সম্মতি দিয়েছেন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি যদি ভয়াবহ আকার ধারণ করে, তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে মোবাইল হসপিটাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে ব্যবহারের প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, জেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১২টি জেলায় ১০ বেডের আইসিইউ চালু হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও পাঁচ জেলায় তা চালু হবে।

মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এমপিদের নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, মশা খুব ক্ষুদ্র পতঙ্গ। আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে যত্রতত্র পানি জমে থাকে। বাড়ির ভেতরে মশক নিধনকর্মীদের ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে, মশারি ব্যবহার করতে হবে এবং ফুল হাতা পোশাক পরতে হবে।

আপন দেশ/এসআর

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়