Apan Desh | আপন দেশ

স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করে সিএনজিচালক সুমন: পুলিশ

কুমিল্লা প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১০:৫৪, ১০ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১১:৪৭, ১০ অক্টোবর ২০২৬

স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করে সিএনজিচালক সুমন: পুলিশ

ছবি: আপন দেশ

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক সুমনই তাজমিনকে ধর্ষণের পরে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, বুধবার (০৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর রেসকোর্স এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে সুমনের সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ভাড়া করে তাজমিন। তবে পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে শহরের দিকে না গিয়ে ভিন্ন উদ্দেশ্যে কিশোরীকে নিয়ে বিজরার দিকে রওনা হয় চালক। দীর্ঘ সময় বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরিয়ে তাকে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি নির্জন সড়কে নেয়া হয়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে তাজমিন প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অটোরিকশাটি সড়কের পাশের ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। কিশোরী দৌড়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা চালালেও শারীরিক দুর্বলতার কারণে কাবু হয়ে পড়ে।

জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সুমন স্বীকার করেছে, সেখানে কিশোরীকে ধর্ষণের পর নিজের গামছা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সে। হত্যাকাণ্ড শেষে সে পাশের একটি পুকুরে গোসল করে এবং নিহতের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন হাতিয়ে নেয়। মুঠোফোনটি স্থানীয় একটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে অটোরিকশা ফেলে রেখেই চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যায় সুমন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ধরে ছায়া তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি এলাকা থেকে চালক সুমনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন পুরো ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। আদালতে অভিযুক্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসামিকে আদালতে উপস্থাপন করার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। 

সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের এসআই পবিত্র সরকার ও এএসআই অর্ণবসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন<<>>তাজমিন হত্যার আসামি কুমিল্লায়, মোবাইল উদ্ধার

এর আগে বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানখেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ ও পাশে পড়ে থাকা অটোরিকশাটি উদ্ধার করে পুলিশ। 

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করায় পরিবারসহ নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী হলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে স্কুলে অনুপস্থিত ছিল বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ০৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে শেষবারের মতো কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। পরবর্তীতে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে সে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে একটি বার্তা পাঠায়। 

তবে গভীর রাতে বাবা ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি সময়মতো দেখতে পাননি। পরদিন সকালে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনরা তা শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়