Apan Desh | আপন দেশ

এনসিপির সদস্য সচিবের অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৮:৩৮, ৪ অক্টোবর ২০২৬

এনসিপির সদস্য সচিবের অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

ছবি: আপন দেশ

টাঙ্গাইল জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান রাসেল ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ্ হায়দারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে মধুপুর উপজেলার জাতীয় নাগরিক পার্টি(এনসিপি) ও জাতীয় ছাত্রশক্তি।

রোববার (০৪ অক্টোবর)সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের অডিটোরিয়াম কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মধুপুর উপজেলা নাগরিক পার্টি(এনসিপি) যুগ্ম সমন্বয়কারী শিবলী সাদিক। তিনি বলেন, আহবায়ক কমিটিতে আওয়ামী পুনর্বাসন, নিয়ম বহির্ভূত পকেট কমিটি গঠন, ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন, সাবেক প্রধান সমন্বয়কারীর অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও টাঙ্গাইল জেলা এনসিপির ধামাচাপা দেয়ায় সহযোগীতা করা হয়েছে । 

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ০৯ জুনে মধুপুর উপজেলা এনসিপির তৎকালীন প্রধান সমন্বয়কারী মো. সবুজ মিয়ার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সরকারি নানান প্রণোদনা ও চাকরির কথা বলে ২ লাভ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণসহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় জাতীয় জাতীয় নাগরিক পার্টি(এনসিপি) মধুপুর উপজেলা কমিটির ২৪ জন সদস্যের মধ্যে ১৬জন অনাস্থাপত্র দেয়।

তার প্রেক্ষিতের একই সালের ১৮ জুন এনসিপি টাঙ্গাইল জেলা আহবায়ক অ্যাডভোকেট মো. কামরুজ্জামান শাওন ও সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান রাসেলের স্বাক্ষরে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ০৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও তিনমাস ১৫দিন যাওয়ার পরও তারা এখন পর্যন্ত তদন্ত রির্পোট জমা দেয়নি। উল্টো ভুক্তভোগীদের বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দেয়া হয়। তদন্ত কমিটি দৃশমান কাজ করতে পারেনি বরং তারা অন্যায়কারীর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত কাজ করছে। সেখানে টাঙ্গাইল জেলার এনসিপি একটা সিন্ডিকেট তাদেরকে সহযোগিতা করেছে। 

আরও পড়ুন<<>>পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা, বনরক্ষীদের তৎপরতায় রক্ষা

এরপর তদন্ত প্রকাশ না করেই ২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বরে তদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপা  ও অর্থ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত প্রধান সমন্বয়কারীকে বাঁচাতে কমিটি বিলুপ্তি করা হয়। জেলা আহবায়ক অ্যাডভোকেট মো. কামরুজ্জামান শাওন ও সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান রাসেলের নির্দেশে এতে স্বাক্ষর করেন জেলা যুগ্ম সদস্য সচিব আ. মালেক।

এরপর গোপনে আহবায়ক ও জেলা সদস্য সচিবের স্বাক্ষরে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির মানিকের সুপারিশে ২৭ সেপ্টেম্বর আংশিক কমিটি প্রকাশ করে। কমিটিতে যাকে আহবায়ক করা হয়েছে সে পূর্ব থেকেই আওয়ামী লীগের ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। মূলত এ কমিটি জেলা সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান রাসেল নিজের মনমতো করার জন্য এমন হয়েছে। যা সঠিক হয়নি। কমিটিতে যাদের পদ দেয়া হয়েছে তারা মধুপুর উপজেলায় থাকেন না বলে জানান। 

অভিযোগে জানান টাঙ্গাইল জেলার এনসিপি সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান রাসেলের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলা থেকেই নানানরকম স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, চাঁদাবাজির ভাগবাটোয়ারা, একক আধিপত্য, মামলা বাণিজ্য, ঘুষ লেনদেন, সিন্ডিকেট ও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। 

২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেলদুয়ার উপজেলার নাগরিক পার্টি(এনসিপি) কমিটির সদস্যরা টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে দেলদুয়ার নাগরিক পার্টি কমিটির সদস্য জুয়েল তার লিখিত বক্তব্যে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেন। সংবাদ সম্মেলনে মধুপুর উপজেলা এনসিপি ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃবন্দ জেলা সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান রাসেলের অপসারন চান। একই সঙ্গে রাসেল গংদের অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এসএম আজ খান হীরা, মীর মোহাম্মদ সোহেল, ফেরদৌস ওয়াহিদ শিশির, মো. সারোয়ার ইকবাল, মো. আজাহার আলী, আলমগীর হোসেন, মো. ছানোয়ার এবং মধুপুর উপজেলার ছাত্রশক্তির আহবায়ক মেহেদী হাসান, শিশির সদস্য সচিব কামরান হাসান, নাজমুল হাসান ও হৃদয় আহমেদ।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়