ছবি: আপন দেশ
জীবিকার তাগিদে বা কোনো অজানা কারণে ঘর ছেড়েছিলেন আজিজুর রহমান। স্বজনদের আশা ছিল, হয়তো একদিন অভিমান ভাঙবে বা আইনি জটিলতা কাটিয়ে তিনি আবারও চিরচেনা আঙিনায় হাসিমুখে ফিরে আসবেন। কিন্তু প্রায় ১১ মাসের প্রতীক্ষার পর ফিরে এলেন এক বিষাদময় স্তব্ধতায়—জীবন্ত মানুষ হিসেবে নয়, একটি কাঠের কফিনে বন্দি হয়ে।
শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) দুপুরে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট দিয়ে আজিজুরের মরদেহ বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সে সময় সীমান্তে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাতাস।
নিহত আজিজুর রহমান (৫০) ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার শাহানাবাদ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত বছরের ১৪ মে ভারতের অভ্যন্তরীণ আমবাড়ী এলাকায় অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক হন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, আটক হওয়ার পর তার ওপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এরপর দীর্ঘ সময় শিলিগুড়ি জেলা কারাগারে বন্দী ছিলেন তিনি।
কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটছিল আজিজুরের দিন। ২২ মার্চ হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে শিলিগুড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ওই বিকেলে হাসপাতালের বিছানায় নিঃশব্দে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বিদেশে একাকী মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে স্বজনরা কাটাতে থাকে নির্ঘুম রাত।
আরও পড়ুন <<>> বলৎকার চেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার
সর্বশেষ আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার দুপুরে বিজিবি ও ইমিগ্রেশন পুলিশের উপস্থিতিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মরদেহ হস্তান্তর করে। জিরো পয়েন্টে কফিনটি গ্রহণ করেন আজিজুরের মেয়ের জামাই দুলাল হোসেন ও ভাতিজা সোহেল রানা। কফিন দেখে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের বিলাপ সীমান্তের কাঁটাতার পার হয়ে চারদিকে শোকের ছায়া ছড়িয়ে দেয়।
পঞ্চগড় ১৮-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস জানান, রাষ্ট্রীয় নিয়ম মেনে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সীমান্তের ওপাড়ে বন্দী থাকা আজিজুরের নিথর দেহ যখন গ্রামের পথে যাত্রা শুরু করে, তখন উপস্থিত লোকজনের মুখে একটাই কথা—মানুষটি ফিরল ঠিকই, কিন্তু এক বুক দীর্ঘশ্বাস আর কফিনবন্দি স্তব্ধতা নিয়ে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































