ছবি: আপন দেশ
যশোরের কেশবপুরে বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় মো. মোকাম গাজী। এমন অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় মো. মোকাম গাজীর পক্ষে ছেলে মামুন গাজী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১২ ও ২০১৩ সালে কেশবপুর পৌরসভার ভোগতি কালাবাশার মোড় এলাকায় আব্দুস সামাদ, মো. মিজানুর রহমান ও নিরঞ্জন সাহার কাছ থেকে চৌহদ্দি উল্লেখ করে মোট ৬ শতক জমি ক্রয় করেন। পরে তিনি জমির নাম পত্তন সম্পন্ন করেন। তারপর থেকে নিয়মিত খাজনা দিয়ে আসছেন। পৌরসভার অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
মোকাম গাজী জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগে নূর ইসলাম তার বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা মামলা করেন। পরে যশোরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কেশবপুর থানাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে কেশবপুর থানার সেকেন্ড অফিসার মো. মকলেচুর রহমান বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন, যা তার পক্ষে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া ২০২৩ সালে তিনি জজ কোর্টে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন<<>>ছয় মাসে কুরআনের হাফেজ দশ বছরের সিদ্দিক
তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কেশবপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন পলাশের নেতৃত্বে একটি বাহিনী তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় তিনি বাধ্য হয়ে ৩০ হাজার টাকা দেন। বাকি টাকা দিতে না পারায় তাকে ও তার ছেলেকে মারধর করা হয়। এতে তার ছেলের শরীরে ৯টি সেলাই দিতে হয়। এ ঘটনায় তিনি জাহাঙ্গীর হোসেন পলাশ, মতিন গাজী, জুয়েল হোসেন ও নূর ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রোববার (০১ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে তার অনুপস্থিতিতে প্রতিপক্ষ নূর ইসলামের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম শহিদের নেতৃত্বে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান চৌধুরী, মতিন গাজী, ওলিয়ার রহমান, সোহেল হাসান আঈদ, জাহাঙ্গীর হোসেন পলাশসহ আরও অনেকে তার জমিতে গিয়ে জবরদখল করে খুঁটি পুঁতে দেন।
মোকাম গাজীর অভিযোগ, বর্তমানে তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে এবং যেকোনো সময় তার বসতঘর ভেঙে জমি দখলের চেষ্টা করা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেছেন। তিনি যশোরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। সংবাদ সন্মেলনের সময় মোকাম গাজীর ছেলে ও স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































