ছবি: বাফুফে
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে খানিকটা উত্তেজনাময় সম্পর্ক বিরাজ করছে। যার জেরে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না টাইগারদের। তবে ফুটবলে দুই দেশের মধ্যে খেলা চলমান রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের মেয়েরা। নেপালের পোখারায় বিকেল ৩ টায় শুরু হবে এ শিরোপা লড়াই।
বর্তমানে উভয় দেশই টুর্নামেন্টের যৌথ চ্যাম্পিয়ন।
ফাইনাল সামনে রেখে শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার অবশ্য অতীত সাফল্যগুলোর কারণে বেশি উচ্ছ্বসিত না হওয়ার কথাই বলেছেন। মেয়েদের মাটিতে পা রেখে খেলার কথাই বলেছেন। লিগ পর্বে ভারতকে হারানোয় মেয়েরা আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে ধাকলেও কোচ তাদের খেলার মাঠে বেশি মনযোগী হতে বলেছেন। বাটলার ফলাফলের চেয়ে খেলোয়াড়দের সুস্থতা ও মানসিক অবস্থার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেই জানিয়েছেন এক ভিডিও বার্তায়।
বাংলাদেশের কোচ বলেছেন, আমরা অনুশীলনের মাত্রা যতটা সম্ভব কমিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি। কারণ অনুশীলনের মাঠটি খেলার উপযুক্ত নয়। অন্যান্য দেশগুলোও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় চোট পেয়েছে। আমার প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য হলো একটি সুস্থ দল মাঠে নামানো। তাদের সুস্থতা আমার কাছে সবার আগে।
আরও পড়ুন<<>>স্বর্ণ জয়ের মিশনে সেমিফাইনালে ইমরানুর
পিটার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের কথা মাথায় রেখে কোনো খেলোয়াড়কে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চান না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মেয়েদের মাটিতে পা রাখা, বিনয়ী থাকা এবং আমাদের ফুটবল দিয়েই মাঠের জবাব দেয়া। লিগ পর্বে ভারতকে হারিয়ে দিলেও ফাইনালে তারা অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে বলে মনে করি। ওরা কিভাবে খেলবে সে সম্পর্কে আমার ভালো ধারণা আছে। তাদের দলে বেশ কিছু মেধাবী খেলোয়াড় আছে। আমাদের সেরা ফর্মে থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের তাদের আবারও হারাতে হবে – বলেছেন এ ব্রিটিশ কোচ।
ফুটবলে অতি আত্মবিশ্বাসের কোনো জায়গা নেই উল্লেখ করে পিটার বলেছেন, অতীতে যা হয়েছে তা অতীত। আমাদের সেটা ভুলে সামনে এগোতে হবে। আমরা একটি ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে ম্যাচে নামছি, কিন্তু কোনোভাবেই অতি-আত্মবিশ্বাসী নই।
চোটের কারণে পুরো টুর্নামেন্টে বাটলারকে দল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছে। লিগ পর্বের ম্যাচগুলোতেও সাত-আটটি পরিবর্তন এনে খেলিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের রিজার্ভ বেঞ্চ খুব শক্তিশাল উল্লেখ করে পিটার বলেছেন, ফাইনালে রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তিই বড় পার্থক্য গড়ে দেবে। এ ম্যাচ থেকেই বোঝা যাবে কোন খেলোয়াড়রা ভবিষ্যৎ এশিয়ান কাপের মতো বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, বয়সভিত্তিক এ প্রতিযোগিতা এ পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ ক্যাটাগরি মিলিয়ে ছয়বার মাঠে গড়িয়েছে। বাংলাদেশ চারবার এবং ভারত একবার এককভাবে হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। ২০২৪ সালের আসরে যৌথভাবেও সেরা হয়েছিল দুই দল।
অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে এর আগের দুই আসরে দুইবারই ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এ দুই দল। ২০২১ সালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে ম্যাচ কমিশনারের সে আলোচিত ‘টস কাণ্ডের’ পর দুই দলকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছিল সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ)।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































