Apan Desh | আপন দেশ

ভাগে কোরবানি দেয়ার সঠিক নিয়ম

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:০৭, ১৩ মে ২০২৬

আপডেট: ১১:০৯, ১৩ মে ২০২৬

ভাগে কোরবানি দেয়ার সঠিক নিয়ম

ফাইল ছবি

মুসলিম উম্মাহর সার্বজনীন দুইটি উৎসবের অন্যতম একটি কোরবানির ঈদ। ঈদুল আজহার প্রধান আকর্ষণ পশু কোরবানি করা। আল্লাহ’র সন্তুষ্টি আদায়ে কেউ একা কোরবানি দিতে পারেন আবার কেউ ভাগে। আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্তরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সাধারণত শরিক বা ভাগে কোরবানি দিয়ে থাকেন। তবে শরিকে কোরবানি করার ব্যাপারে ইসলামে কিছু বিধান রয়েছে। সে বিধানের ব্যত্যয় ঘটলে কোরবানি যথার্থ বলে বিবেচিত হবে না।

নবী করীম (সা) সাত ভাগ পর্যন্ত কোরবানি দেয়া অনুমোদন করেছেন। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিস জানাচ্ছে, রাসুল (সা) উটের ক্ষেত্রে ১০ ভাগ পর্যন্ত কোরবানি দেয়ার অনুমোদন দিয়েছেন।

নিজের অর্থে কেনা পশুটি আল্লাহর নামে উৎসর্গ করে জবাই করার মাধ্যমে একজন প্রকৃত মুসলমান মূলত নিজেকে আল্লাহর কাছে সমপর্ণের শিক্ষা নেয়।

ভাগে কোরবানি দেয়ার ক্ষেত্রে আবশ্যক
কোরবানির পশুতে প্রত্যেক অংশীদারের অংশ সমান হতে হবে।
কারো অংশ অন্যের অংশ থেকে কম হতে পারবে না।
যেমন কারো আধা ভাগ, কারো দেড় ভাগ।
এমন হলে কোনো শরিকের কোরবানি শুদ্ধ হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৭)

উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগেকোরবানি করা জায়েয।
(মুসলিম, হাদিস: ১৩১৮; বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৭)

আরও পড়ুন<<>>ঈদুল আজহার তারিখ জানালো কাতার

কোনো অংশীদারের নিয়ত গলদ হলে 
অংশীদারদের কেউ যদি আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে কোরবানি না করে, শুধু গোশত খাওয়ার নিয়তে কোরবানি করে; তাহলে তার কোরবানি শুদ্ধ হবে না। তাকে অংশীদার বানালে অংশীদারদেরও কোরবানি হবে না। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অংশীদার নির্বাচন করা জরুরি। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৮, কাজিখান: ৩/৩৪৯)

কোরবানির পশুতে আকিকার অংশ
কোরবানির গরু, মহিষ ও উটে আকিকার নিয়তে অংশীদার হতে পারবে। এতে কোরবানি ও আকিকা দুটোই  শুদ্ধ হবে। ছেলের জন্য দুই অংশ আর মেয়ের জন্য এক অংশ দিতে হবে। শৈশবে আকিকা করা না হলে বড় হওয়ার পরও আকিকা করা যাবে। যার আকিকা সে নিজে এবং তার মা-বাবাও আকীকারগোশত খেতে পারবে। (ইলাউস সুনান: ১৭/১২৬)
ফাতাওয়া শামীসহ ফিকহ-ফাতাওয়ার কিতাবাদিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কোরবানির সঙ্গে আকীকা সহীহ। (রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬; হাশিয়াতুত তহতাভি আলাদ্দুর: ৪/১১৬)

হারাম টাকার কোরবানি শুদ্ধ নয়
কোরবানি করতে হবে সম্পূর্ণ হালাল সম্পদ থেকে। হারাম টাকা দ্বারা কোরবানি করা শুদ্ধ নয় এবং এক্ষেত্রে অন্য অংশীদারদের কোরবানিও শুদ্ধ হবে না।
কেউ যদি গরু, মহিষ বা উট একা কোরবানি দেয়ার নিয়তে কিনে আর সে ধনী হয়, তাহলে তার জন্য এপশুতে অন্যকে অংশীদার করা জায়েয। তবে এতে কাউকে শরিক না করে একা কোরবানি করাই শ্রেয়। শরিক করলে সে টাকা সদকা করে দেয়া উত্তম।

আর যদি ওই ব্যক্তি এমন গরীব হয়, যার উপর কোরবানি করা ওয়াজিব নয়, তাহলে যেহেতু কোরবানির নিয়তে পশুটি ক্রয় করার মাধ্যমে লোকটি তার পুরোটাই আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করে নিয়েছে, তাই তার জন্য এপশুতে অন্যকে শরিক করা জায়েজ নয়। যদি শরিক করে তবে ওই টাকা সদকা করে দেয়া জরুরি হবে। কোরবানির পশুতে কাউকে শরিক করতে চাইলে পশু ক্রয়ের সময়ই নিয়ত করে নিতে হবে। (কাজিখান: ৩/৩৫০-৩৫১, বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২১০)

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement