Apan Desh | আপন দেশ

হজের ফরজ-ওয়াজিব-সুন্নতগুলো কী কী

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১৮, ৮ মে ২০২৬

হজের ফরজ-ওয়াজিব-সুন্নতগুলো কী কী

ছবি সংগৃহীত

হজ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান নারী-পুরুষের ওপর হজ ফরজ। কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহর তরফ থেকে সেসব মানুষের জন্য হজ ফরজ, যারা তা আদায়ের সামর্থ্য রাখে (সুরা আলে ইমরান; আয়াত: ৯৭)।

হজরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, সর্বাধিক উত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন,  আল্লাহ ও তার রসুলের উপর ঈমান আনা। আবার জিজ্ঞেস করা হলো, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করা। আবার জিজ্ঞেস করা হলো, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, হজে মাবরুর বা মকবুল হজ আদায় করা। (বুখারি ১৪২৯)

হজের ফরজ কয়টি ও কি কি?

হজের ফরজ তিনটি
এক. ইরামের নিয়ত বা ইচ্ছা করা
দুই. অকুফে আরাফা করা, ৯ জিলহজ জোহর থেকে ১০ জিলহজ ফজরের আগপর্যন্ত যেকোনো সময় আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা;
তিন. তাওয়াফে জিয়ারত করা, ১০ জিলহজ ভোর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেকোনো সময় কাবাঘর তাওয়াফ বা সাতবার প্রদক্ষিণ করা।

হজের ওয়াজিব কয়টি ও কি কি?

হজের ওয়াজিব সাতটি
১. আরাফা থেকে মিনায় ফেরার পথে মুজদালিফা নামের স্থানে ১০ জিলহজ ভোর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কিছু সময় অবস্থান করা
২. সাফা ও মারওয়া সায়ি করা বা দৌড়ানো
৩. রমিয়ে জিমার বা ১০, ১১ ও ১২ জিলহজ জামারায় শয়তানকে পাথর মারা
৪. তামাত্তু ও কিরান হজে দমে শোকর করা
৫. মাথার চুল মুড়িয়ে বা কেটে ইহরাম সমাপ্ত করা
৬. বিদায়ী তাওয়াফ করা
৭. মদিনা শরিফ রওজাতুন নবী (সা.) জিয়ারত করা। (আসান ফিকাহ, ইউসুফ ইসলাহি, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৫১)

আরও পড়ুন<<>>কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে কুরবানি করা ওয়াজিব

হজের সুন্নত কয়টি ও কি কি?

হজের সুন্নত দশটি
১. তাওয়াফে কুদুম বা প্রথম তাওয়াফ করা (ইফরাদ ও কিরান হজকারীর জন্য)
২. তাওয়াফের সময় রমল করা (প্রথম তিন চক্কর সৈনিকের মতো বীরদর্পে চলা)
৩. খলিফা অথবা তাঁর প্রতিনিধি তিন দিন তিন স্থানে খুতবা প্রদান করা বা ভাষণ দেওয়া। (৭ জিলহজ কাবা শরিফের হারাম শরিফে, ৯ জিলহজ আরাফায় মসজিদে নামিরাতে, ১১ জিলহজ মিনাতে।)
৪. আট জিলহজ মক্কা শরিফ থেকে মিনাতে গিয়ে জোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা এবং রাতে সেখানে অবস্থান করা
৫. ৯ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে আরাফাতের দিকে রওনা হওয়া
৬. অকুফে আরাফা বা আরাফাতে অবস্থানের জন্য সকালে (দুপুরের পূর্বে) গোসল করা
৭. ৯ জিলহজ আরাফাতে অবস্থান করে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার দিকে রওনা করা। ৯. ১০, ১১ ও ১২ জিলহজ মিনাতে রাত যাপন করা। ১০. মিনা থেকে মক্কা শরিফ প্রত্যাবর্তনের সময় ‘মুহাচ্ছার’ নামের জায়গায় কিছু সময় অবস্থান করা।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়