Apan Desh | আপন দেশ

নেতা নির্বাচন নিয়ে ইসলাম কী বলে

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৩৫, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নেতা নির্বাচন নিয়ে ইসলাম কী বলে

ছবি: সংগৃহীত

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ব্যক্তিগত ইবাদত থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা—সব ক্ষেত্রেই এতে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। নেতা নির্বাচন ইসলামের দৃষ্টিতে একটি বড় আমানত। নেতৃত্বের মাধ্যমেই সমাজ, রাষ্ট্র ও জাতির কল্যাণ বা অকল্যাণ নির্ধারিত হয়।

নেতা নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়। এটি ঈমানি দায়িত্বের অংশ। ব্যক্তিগত স্বার্থ বা সাময়িক সুবিধার ঊর্ধ্বে উঠে জাতির সামগ্রিক কল্যাণ বিবেচনা করা জরুরি। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেয়া প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।

ইসলামে দায়িত্বশীল পদকে আমানত হিসেবে দেখা হয়। নেতৃত্বের দায়িত্ব এমন ব্যক্তির হাতে দেয়া উচিত, যিনি এ আমানতের হক আদায় করতে পারবেন। অযোগ্য ব্যক্তির হাতে দায়িত্ব দিলে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অবিচার বাড়ে। আর নেতার প্রধান গুণ ন্যায়পরায়ণতা। নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তি যেন পক্ষপাতহীনভাবে বিচার করেন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হলে সমাজে স্থিতিশীলতা ও আস্থা তৈরি হয়।

ইসলাম কেবল ধার্মিকতাই নয়, যোগ্যতাকেও গুরুত্ব দেয়। দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা থাকতে হবে। অযোগ্য নেতৃত্ব রাষ্ট্র ও সমাজের ক্ষতি ডেকে আনে। নেতা হবেন সত্যবাদী ও বিশ্বাসযোগ্য। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অপব্যবহার ইসলামের দৃষ্টিতে নিন্দনীয়। সৎ নেতৃত্বই জনআস্থা রক্ষা করতে পারে।

নেতৃত্ব মানে সেবা। নেতা হবেন জনগণের কল্যাণে নিবেদিত। দুর্বল ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি অগ্রাধিকার দেবেন। ক্ষমতা ভোগ নয়, দায়িত্ব পালনই হবে তার লক্ষ্য।

ইসলাম পরামর্শকে গুরুত্ব দেয়। নেতা একক সিদ্ধান্তে নয়, সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে চলবেন। এতে ভুলের আশঙ্কা কমে এবং সিদ্ধান্ত আরও গ্রহণযোগ্য হয়। নেতৃত্বের অন্যতম দায়িত্ব হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া। চাপ বা লোভের কাছে নতি স্বীকার না করে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা ইসলামের নির্দেশ।

আরও পড়ুন <<>> ইসলামের দৃষ্টিতে ভোট একটি আমানত

নেতা নির্বাচন তাই ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়। এটি ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব। সৎ, যোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্ব বেছে নেয়ার মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে উঠতে পারে।

নিচে নেতা নির্বাচনে ইসলামের নির্দেশনা তুলে ধরা হলো:

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন,

 إِنَّ ٱللَّهَ يَأۡمُرُكُمۡ أَن تُؤَدُّواْ ٱلۡأَمَٰنَٰتِ إِلَىٰٓ أَهۡلِهَا অর্থ : নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছেন, আমানত তার প্রকৃত অধিকারীর কাছে পৌঁছে দিতে। (সুরা নিসা: ৫৮)
 
নেতৃত্ব একটি আমানত। এ আমানত অযোগ্য ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়া বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম বলেন,

إِذَا ضُيِّعَتِ الأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ অর্থ : যখন আমানত নষ্ট করা হবে, তখন কেয়ামতের অপেক্ষা করো। (বুখারি: ৬৪৯৬) 
 
অতএব, যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতা নির্বাচন করা ঈমানি দায়িত্ব।
 
যোগ্যতা ও দক্ষতাই মানদণ্ড

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন,

إِنَّ خَيۡرَ مَنِ ٱسۡتَ‍ٔۡجَرۡتَ ٱلۡقَوِيُّ ٱلۡأَمِينُ অর্থ : তুমি যাকে নিয়োগ দেবে, তার সর্বোত্তম গুণ হবে-- সে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত। (সুরা কাসাস: ২৬) 

এ আয়াত প্রমাণ করে, নেতৃত্বের জন্য দুটি মৌলিক গুণ অপরিহার্য, ১. দক্ষতা ২. যোগ্যতা। 

তাকওয়া ও ন্যায়পরায়ণতা

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, 

إِنَّ أَكۡرَمَكُمۡ عِندَ ٱللَّهِ أَتۡقَىٰكُمۡ অর্থ : নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত সে-- যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান। (সুরা হুজুরাত: ১৩)

নেতার মধ্যে আল্লাহভীতি ও ন্যায়পরায়ণতা থাকা অপরিহার্য। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম বলেন,
 سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ... إِمَامٌ عَادِلٌ অর্থ: কেয়ামতের দিন সাত শ্রেণির মানুষ আল্লাহর আরশের ছায়ায় থাকবে--তাদের একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক। (বুখারি ও মুসলিম)।

নেতৃত্ব লোভ নিষিদ্ধ, ইসলামে নেতৃত্ব কামনা করা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম বলেন,
 إِنَّا لَا نُوَلِّي هَذَا الْعَمَلَ مَنْ سَأَلَهُ অর্থ : যে ব্যক্তি নেতৃত্ব চায়, আমরা তাকে এ দায়িত্ব দিই না। (বুখারি: ৭১৪৯)

কারণ, নেতৃত্ব চাওয়া অহংকার ও ক্ষমতার মোহের লক্ষণ হতে পারে। বরং যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান করাই ইসলামের নীতি।
 
ইনসাফ, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণ
নেতার প্রধান দায়িত্ব হলো ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, 
 إِنَّ ٱللَّهَ يَأۡمُرُ بِٱلۡعَدۡلِ وَٱلۡإِحۡسَٰنِ অর্থ : নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার ও সদাচরণ করার নির্দেশ দেন। (সুরা নাহল: ৯০)
 
রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম বলেন,
 كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ অর্থ: তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। (বুখারি ও মুসলিম)

ভোট আমানত 
ভোট প্রদান ইসলামের দৃষ্টিতে সাক্ষ্য ও আমানত। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, 
 وَلَا تَكۡتُمُواْ ٱلشَّهَٰدَةَ অর্থ: তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। (সুরা বাকারা: ২৮৩)

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়