Apan Desh | আপন দেশ

কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে ব্যালট পেপারসহ ভোটের সরঞ্জাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১১:৫২, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে ব্যালট পেপারসহ ভোটের সরঞ্জাম

ছবি : আপন দেশ

রাত পোহালেই শুরু হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উৎসব। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে  সারাদেশে একযোগে শুরু হবে ভোটগ্রহণ। এরইমধ্যে নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে ব্যালট পেপারসহ ভোটের সরঞ্জাম। 

নির্বাচন কমিশনের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকাসহ বড় শহরগুলোয় ব্যালট বক্স পৌঁছে যাবে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার মধ্যে। আর রাতের মধ্যেই ঢাকার বাইরের ভোটকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে যাবে ব্যালট পেপার-বক্সসহ ভোটের প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম। বুধবার ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় নয় লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন। একটি সাদা ব্যালট, এটি হবে সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যালট। আর গোলাপি ব্যালট হবে গণভোটের।

এরই মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ১ হাজার ৯৬৫টি কেন্দ্রে ভোট হবে।

এদিকে পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকাগুলোতে হেলিকপ্টারে করে পাঠানো হচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। রাজশাহীর পাঁচটি আসনের জন্য নয় উপজেলায় ব্যালট ও সরঞ্জাম বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে রাজশাহী-২ সদর আসনের ব্যালট পেপার বুধবার মাদরাসা মাঠ থেকে কেন্দ্রে পাঠানো হবে। চাঁদপুর, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায় উপজেলা পর্যায়ে ভোটের সরঞ্জাম যাচ্ছে। বুধবার সকাল থেকে এসব সরঞ্জাম প্রিসাইডিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন<<>>সিইসি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন আজ 

ভোটের দিনে সংঘাতের তেমন আশঙ্কা নেই বলে মনে করছে ইসি। কেন্দ্রগুলোতে থাকবে ঈদের আমেজ। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, নির্বাচন নিয়ে কোনো চাপে নেই ইসি। নির্বাচনকে বিতর্কিত করার তাই সুযোগ নেই।

রাষ্ট্র সংস্কার আর রাজনীতির নতুন মেরুকরণের এ নির্বাচনে, লড়ছেন ২ হাজার ২৮ জন। নারী প্রার্থী ৮৩ জন, স্বতন্ত্র ২৭৫ জন। অংশ নিচ্ছে ৫০টি দল। প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে ভোট স্থগিত। তাই বৃহস্পতিবার নির্বাচন হচ্ছে ২৯৯ আসনে। এসব আসনে ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ আছেন ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

মোট ৪২ হাজার ৯৫৮টি কেন্দ্রে ভোট হবে। যার মধ্যে অর্ধেকই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রাথমিকভাবে সারাদেশে আট হাজার ৭৭০টি ভোটকেন্দ্র অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে এবং মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হলো ১৬ হাজার।

এবার নির্বাচনী দায়িত্বে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা। নিরাপত্তায় থাকছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য। 

এর আগে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ২৯৯টি আসনের ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সারাদেশে মোতায়েন আছে বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য। এ ছাড়া ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত আছেন।

তিনি আরও জানান, ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে ভোট স্থগিত রয়েছে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে। ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য সিসিক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল আগেই।

৯০ শতাংশের কথা বললেও কতটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্টভাবে হিসাব দিতে পারেননি নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়