Apan Desh | আপন দেশ

পার্বত্য জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগে মেধা মূল্যায়নের দাবি

রাঙামাটি প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৫:০১, ২৭ জুলাই ২০২৬

পার্বত্য জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগে মেধা মূল্যায়নের দাবি

ছবি : আপন দেশ

তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে শতভাগ মেধা মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চাকরিপ্রার্থীরা। আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটা বজায় রেখে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে রাঙামাটি কোটা বিরোধী ঐক্যজোট।

সোমবার (২৭ জুলাই ) সকালে  জেলা শহরের বনরূপা এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত বিভাগগুলোর নিয়োগে ৬৭ শতাংশ উপজাতি ও ৩৩ শতাংশ বাঙালি কোটার মাধ্যমে মেধা ও যোগ্যতাকে উপেক্ষা করে বৈষম্যমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। তারা দাবি করেন, এ ব্যবস্থা সংবিধানের ন্যায়বিচারের চেতনার পরিপন্থী এবং চাকরীপ্রত্যাশী তরুণদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২৩ জুলাই ২০২৪ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে সারা দেশের সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হলেও পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো তা বাস্তবায়ন করেনি।

নেতারা আরও জানান, ২০ নভেম্বর ২০২৫ রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় পুনরায় বৈষম্যমূলক কোটা অনুসরণের উদ্যোগ নেয়া হলে কোটা বিরোধী ঐক্যজোট স্মারকলিপি প্রদান, আন্দোলন এবং হরতাল কর্মসূচি পালন করে। আন্দোলনের মুখে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয় এবং পরে কোটা বিষয়ে আইনগত ব্যাখ্যা জানতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামত জেলা পরিষদগুলোকে জানায়। ওই ব্যাখ্যায় বলা হয়, জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯-এ নির্দিষ্ট শতকরা কোটার বিধান নেই; কেবল সমযোগ্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় উপজাতীয় প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেয়ার সুযোগ রয়েছে। 

আরও পড়ুন<<>>জামালপুর ডায়াবেটিক হাসপাতাল: সেবার আড়ালে ‘বাণিজ্য সাম্রাজ্য’! 

পাশাপাশি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অগ্রাধিকার কখনোই মেধাকে অতিক্রম করতে পারবে না এবং জাতীয় প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের নেতারা বলেন, সরকারের আইনগত ব্যাখ্যায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এতদিন প্রচলিত ৬৭-৩৩ শতাংশ কোটাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা আইনি ভিত্তিহীন। তাই আর কোনো বিলম্ব না করে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়ায় স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটায় নিয়োগ নিশ্চিত করা, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন, উপজেলাভিত্তিক কোটার বিন্যাস প্রকাশ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের তথ্য প্রকাশ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের আহবায়ক মোহাম্মদ জনি, সদস্য সচিব মো. নুরুল আলম, যুগ্ম আহবায়ক মো. ফজলে রাব্বী, মো. ইব্রাহিম রুবেল, মো. রুবেল হোসেন, মো. আশরাফ আলী, মো. নাসিমার গণি, সদস্য মো. হাবিবউল্লাহ, মো. আরিফুল হক, মুন্নি আক্তার এবং জান্নাতুল ফেরদৌস।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার পরও যদি জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে টালবাহানা বা কালক্ষেপণ করে, তাহলে পাহাড়ের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে তারা গণমাধ্যমের প্রতি এই ন্যায্য দাবির বিষয়টি যথাযথভাবে তুলে ধরার আহবান জানান।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়