ছবি : আপন দেশ
রাজধানীর রমনায় হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপি নেতৃত্বের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নির্দেশে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মতিতে এ হামলা সংঘটিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ছাত্রদলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ক্যাডাররা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে।
ঘটনাটিকে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, একদিকে ভালো কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীদের ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালানো হচ্ছে। এ ধরনের রাজনীতিকে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি পুনর্বাসনের চেষ্টা বলেও মন্তব্য করেন।
নির্বাচন কমিশন, কলেজ প্রশাসন ও বিএনপির প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে তারা কী ব্যবস্থা নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে এনসিপি। এরপর প্রয়োজনীয় জবাব রাজপথে দেয়া হবে বলে জানান তিনি। আগামী ১২ তারিখে সে জবাব দেয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন মির্জা আব্বাস।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আগের আচরণ পরিত্যাগ না করলে নির্বাচনে এর পরিণতি ভালো হবে না। তিনি বলেন, নির্বাচন মানে কথার লড়াই। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কাকে ভোট দেবে। জনগণকে সে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ কেন দেয়া হচ্ছে না—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আরও পড়ুন <<>> দ্বন্দ্ব ভুলে প্রার্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান তারেক রহমানের
নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণই নির্ধারণ করবে কে বেয়াদব, কে গ্যাংস্টার, কে সন্ত্রাসী এবং কে জনগণের পক্ষে কথা বলে।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা আব্বাসের রাজনৈতিক অতীত নিয়েও মন্তব্য করেন এনসিপির আহবায়ক। তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমান একসময় মির্জা আব্বাসকে একটি হুন্ডা ও ৩০ টাকা দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হতে আহবান জানিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ঢাকা শহরে কীভাবে একটি রাজনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে, তা এ শহরের মানুষ জানে। অতীত নিয়ে কথা বললে শুধু জামায়াত নয়, বিএনপির অতীতও মানুষের জানা।
২০০১ থেকে ২০০৬ সালের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের মানুষ ভুলে যায়নি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীত ধরে আলোচনা হলে সবার অতীত নিয়েই কথা বলা হবে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































