ছবি : আপন দেশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও আপিলের পর চূড়ান্ত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২৯৮টি আসনে মোট ১,৯৭২ জন প্রার্থী স্বীকৃতি পেয়েছেন। এটি ১৯৯৬ সালের পর সর্বোচ্চ। তবে আইনি জটিলতার কারণে পাবনা-১ ও ২ আসনের প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়নি; ফলে প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সন্ধ্যায় এ চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করে।
ইসি প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর এ সংখ্যা স্থির হয়েছে। এবারে ৩০৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
ইসি সূত্র জানায়, এর আগে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ১,৮৯৬ জন। এছাড়া ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে ১,৮৪১ জন এবং ২০১৪ সালের দশম নির্বাচনে মাত্র ৩৯০ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৩ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিল।
অন্যদিকে, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ১,৫৬৭ জন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন আরও কম, ১,৯৩৯ জন।
তবে ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২,৫৭৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
পরিসংখ্যান থেকে প্রতীয়মান হয়, এবারের নির্বাচন গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
এবার কোনো আসনে একক প্রার্থী নেই। আইনি কাঠামোর কারণে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ নির্বাচিত হওয়ার সুযোগও রাখা হয়নি। ইসির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অন্যদিকে পিরোজপুর-১ আসনে দুইজন। বিএনপির আলমগীর হোসেন ও জামায়াতে ইসলামীর মাসুদ সাঈদী।
আরও অন্তত ৩১টি আসনে দশজন বা বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১৩ জন এবং খুলনা-১, ঢাকা-৯, ঢাকা-১৪ ও গাজীপুর-২ আসনে ১২ জন করে প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন।
এছাড়া ১৪টি আসনে প্রতিটি তিনজন করে প্রার্থী রয়েছেন। এসব আসনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ঠাকুরগাঁও-১, জয়পুরহাট-২, নওগাঁ-২, মেহেরপুর-২, চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২, খুলনা-২, টাঙ্গাইল-৭, নেত্রকোনা-৫, মানিকগঞ্জ-২, ঢাকা-২, সুনামগঞ্জ-১ ও ২, চট্টগ্রাম-১৫ ও কক্সবাজার-১।
আরও পড়ুন <<>> বিদেশি রিভালবারসহ একজন গ্রেফতার
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে মোট ২,৫৮০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১,৮৫৫টি মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং ৭২৫টি বাতিল হয়। পরে আপিল ও আদালতের আদেশে ৪৩৬ জন প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পান।
ইসি তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটও হবে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার রয়েছেন যারা এ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
সাম্প্রতিক নির্বাচনের তুলনায় এবারে দলের অংশগ্রহণও বেশি। নিবন্ধিত ৫৯টি দলের মধ্যে ৫১টি দল এসব নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে। দলগুলো ২,০৯১টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ৪৭৮টি মনোনয়নপত্র এসেছে।
তবে কিছু দল এবারে অংশ নেয়নি। তাদের মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, তৃণমূল বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের প্রার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ার পেছনে কিছু কারণ ভূমিকা রেখেছে। আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে কমিশন নমনীয়তা দেখিয়েছে। এবারে দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়েও ছাড় দেয়া হয়েছে।
যারা ফি সহায়তায় নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন করেছেন, তাদের প্রার্থিতা বৈধ হিসেবে গন্য হয়েছে। এর পাশাপাশি ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রে ছাড় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর শিথিলভাবে গৃহীত হয়েছে।
এক প্রার্থী প্রেস করেছিল প্রয়োজনীয় ৪ হাজার ৭ ভোটারের সমর্থনের বিপরীতে মাত্র পৌনে ৭০০ ভোটারের সমর্থন দিয়েও প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থনসূচক শর্তে ছাড় দিয়ে আমরা নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে চেয়েছি। আমরা চাই সবাই অংশ নিক এবং একটি সুন্দর নির্বাচন হোক।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































