Apan Desh | আপন দেশ

আপসহীনতার অবিনাশী প্রতীক: বেগম খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রের চার দশক

এ এইচ এম ফারুক

প্রকাশিত: ১৫:৩৬, ৪ জানুয়ারি ২০২৬

আপসহীনতার অবিনাশী প্রতীক: বেগম খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রের চার দশক

ফাইল ছবি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক মহীয়সী ও অকুতোভয় নেত্রী, আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম রূপকার এবং গণতন্ত্র রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী বেগম খালেদা জিয়া না ফেরার দেশে।

তার মৃত্যু কেবল একটি রাজনৈতিক শূন্যতা নয়, বরং এটি একটি আদর্শিক স্তম্ভের মহাপ্রয়াণ। ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫-এর এ বিষণ্ণ সকালে জাতি তার প্রিয় 'দেশনেত্রী'কে হারালো। তার এ প্রস্থান বাংলাদেশের রাজনীতির এক সুবিশাল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটালো, যা গত চার দশক ধরে গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ছিল আপসহীন।

শৈশব থেকে সেনাপত্নী: এক নিভৃতচারী জীবনের সূচনা

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্ম নেয়া অনিন্দ্য সুন্দর সেই মেয়েটি, যার ডাকনাম ছিল পুতুল, তিনি কখনো ভাবেননি যে তাকে একদিন একটি রাষ্ট্রের ও কোটি কোটি মানুষের অভিভাবক হতে হবে। বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদারের স্নেহছায়ায় বেড়ে ওঠা খালেদা মজুমদার ১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উদীয়মান অফিসার জিয়াউর রহমানের সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। এরপর দীর্ঘ দুই দশক তিনি ছিলেন একজন আদর্শ ঘরণী ও মমতাময়ী মা। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বামী যখন রণাঙ্গনে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত, তখন তিনি দুই শিশু সন্তান নিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে বন্দী অবস্থায় চরম দুঃসহ সময় পার করেছেন। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে থেকেও তিনি নিজেকে রাজনীতির আলো থেকে দূরে রেখেছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিপরীক্ষা ও বন্দী জীবন

শৈশব ও বিবাহের পর বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা শুরু হয় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি জিয়াউর রহমান যখন চট্টগ্রামে বিদ্রোহ ঘোষণা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে লিপ্ত হন, তখন বেগম জিয়া দুই শিশু সন্তান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে ঢাকায় আটকা পড়েন। তিনি কেবল একজন সেনাপত্নী হিসেবে ঘরে বসে থাকেননি, বরং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে বুকে ধারণ করে পাকিস্তানি বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে দীর্ঘ সময় পালিয়ে বেড়িয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন এবং দীর্ঘ নয় মাস ঢাকা সেনানিবাসে বন্দী জীবন অতিবাহিত করেন।

যেই সময় তার স্বামী রণাঙ্গনে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করছিলেন, সেই সময় বেগম জিয়াকে দুই অবুঝ সন্তান নিয়ে অন্ধকার কুঠুরিতে চরম মানসিক ও শারীরিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে। স্বাধীনতার ইতিহাসে বেগম জিয়ার এ বন্দী জীবন ও আত্মত্যাগ তাকে কেবল একজন রাজনৈতিক নেত্রী নয়, বরং একজন 'যুদ্ধবন্দী ও মুক্তিযোদ্ধা' হিসেবে মহিমান্বিত করে। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে একটি বিশেষ মহল উনার এ বীরত্বগাথা ত্যাগের ইতিহাসকে আড়াল করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু সত্য চিরকালই ভাস্বর; বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তার এ প্রত্যক্ষ অবদান ও কষ্ট সহ্য করার ইতিহাস পাহাড়-সমতলের প্রতিটি মানুষের কাছে এক অবিস্মরণীয় অনুপ্রেরণা।

জিয়ার শাহাদাত ও রাজনীতির অগ্নিপরীক্ষা

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শাহাদাতবরণ করেন। তখন বেগম খালেদা জিয়ার বয়স ছিল মাত্র ৩৬ বছর। রাজনীতির সঙ্গে তার দূরতম কোনো সম্পর্ক ছিল না; তিনি ছিলেন কেবল দুই কিশোর সন্তানকে আগলে রাখা এক বিধবা মা। কিন্তু স্বামীর শাহাদাতের পর দেশ ও দল যখন এক গভীর সংকটের মুখে পড়ে, যখন জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপি ভাঙন ও ষড়যন্ত্রের শিকারে পরিণত হয়, তখন তৃণমূলের নেতাকর্মীদের হাহাকার তাকে ঘরে থাকতে দেয়নি। ১৯৮৩ সালে তিনি বিএনপির নেতৃত্বের হাল ধরেন। স্বামীর নীতি ও আদর্শ রক্ষায় তিনি ড্রয়িংরুম ছেড়ে রাজপথে নামেন। এক শান্ত সুবোধ ঘরণী থেকে তিনি পরিণত হন রাজপথের লড়াকু সৈনিকে।

দীর্ঘ নয় বছরের আপসহীন সংগ্রাম ও গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম

১৯৮২ সালে সেনাপ্রধান লে. জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করলে বেগম জিয়া তা মেনে নিতে পারেননি। তিনি বুঝেছিলেন, এ দেশে গণতান্ত্রিক ধারা মজবুত না করতে পারলে জাতি কখনো স্বনির্ভর হতে পারবে না। ১৯৮২ থেকে ১৯৯০—এ দীর্ঘ ৯ বছর তিনি এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। শত শতবার আটক, গৃহবন্দী এবং নিপীড়নের শিকার হয়েও তিনি পিছপা হননি। তার এ আপসহীনতার কারণেই ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান সফল হয় এবং ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম হয়।

রাষ্ট্রের হাল ধরা: প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণযুগ

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকার প্রধান হিসেবে শপথ নেন। তার আমলেই সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় পদ্ধতি চালু হয়। তিনি দেশকে একটি 'তলাবিহীন ঝুড়ি' থেকে সমৃদ্ধ অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেন। তার শাসনামলের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো হলো:

শিক্ষা বিপ্লব: মেয়েদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ও ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রবর্তন।

অর্থনৈতিক সংস্কার: বাংলাদেশে প্রথম 'মূল্য সংযোজন কর' (VAT) চালু করা।

সামাজিক নিরাপত্তা: 'শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য' কর্মসূচি এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ আন্দোলন।

অবকাঠামো: যমুনা বহুমুখী সেতুর কাজ শুরু এবং যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।

২০০১ সালে আবারও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তিনি ক্ষমতায় আসেন এবং দেশকে সন্ত্রাস ও চরমপন্থা মুক্ত করে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যান।

১/১১-এর অগ্নিপরীক্ষা ও দেশপ্রেমের অনন্য নজির

২০০৭ সালের ১/১১ পরবর্তী সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে অনেক নেতা যখন 'মাইনাস-টু' ফর্মুলার ভয়ে আপস করেছিলেন, তখন বেগম জিয়া ছিলেন হিমালয়ের মতো অটল। তাকে সপরিবারে দেশ ছাড়ার জন্য অবর্ণনীয় চাপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই ঐতিহাসিক উক্তিটি করেছিলেন: “বিদেশে আমার কোনো বাড়ি-ঘর নেই, দেশই আমার ঠিকানা। মরলে এদেশের মাটিতেই মরব।” এ একটি ঘোষণা তাকে সাধারণ নেত্রী থেকে 'জাতীয় বীর'-এ পরিণত করে। ওই সময় কারাগারে তাকে ও তার দুই সন্তানকে যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে, তা আধুনিক গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়।

বিগত আমলের বর্বরতা ও শহীদ মঈনুল রোডের স্মৃতি উচ্ছেদ

বিগত আওয়ামী শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়ার ওপর যে অমানবিক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালানো হয়েছে, তা ইতিহাসে বিরল। ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর তাকে তার দীর্ঘ ৪০ বছরের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মঈনুল রোডের নিবাস থেকে মাত্র এক কাপড়ে উচ্ছেদ করা হয়। স্বামীর স্মৃতি এবং সন্তানদের শৈশব জড়ানো সেই ঘর থেকে তাকে নিঃস্ব অবস্থায় বের করে দেওয়ার দৃশ্যটি প্রতিটি বিবেকবান মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছিল। এরপর তাকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলায় সাজা দিয়ে নাজিমুদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তার নূন্যতম সুচিকিৎসার অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

সন্তান বিয়োগের শোক ও সীমাহীন আত্মত্যাগ

রাজনীতির ময়দানে বেগম জিয়াকে দমানো না পেরে তার ওপর ব্যক্তিগত আঘাত হানা হয়েছে বারবার। নির্বাসিত অবস্থায় কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যু ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। এক সন্তানকে হারিয়ে এবং জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানকে নির্বাসিত অবস্থায় রেখেও তিনি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তার গর্জন থামাননি। তিনি হারিয়েছেন তার ঘর, হারিয়েছেন সন্তান, হারিয়েছেন দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বাধীনতা—তবুও তিনি বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্রের দাবি থেকে এক চুলও নড়েননি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উন্নয়নের রূপকার

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং পাহাড়ের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বেগম জিয়ার অবদান অবিস্মরণীয়। বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গেরিলা শান্তি বাহিনীর সঙ্গে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত ১৩ বার শান্তি আলোচনায় বৈঠক হয়েছিল তার সরকারের সময়ে। যদিও সংবিধান সাংঘর্ষিক বিছু শর্তের কারণে সে যাত্রায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সম্পাদিত হয়নি।

তার সময়ে ২০০৬ সালে খাগড়াছড়িতে পর্যটন মোটেল, টিটিসি, খাগড়াছড়ি গেট এবং যুব উন্নয়ন কেন্দ্রসহ কয়েকশ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন উনার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রমাণ। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে তিনি পাহাড়ে শিক্ষা, কৃষি ও অবকাঠামোর বৈপ্লবিক প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। পার্বত্যবাসীরা তাকে সবসময় তাদের পরম আপনজন ও অভিভাবক হিসেবে গণ্য করত।

ইতিহাসের অমর অধ্যায়

বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন জেনারেলের শান্ত সুবোধ ঘরণী থেকে এক অদম্য নেত্রীতে পরিণত হননি, বরং তিনি হয়ে উঠেছিলেন শোষিত মানুষের একমাত্র ভরসা। কারাগারে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ধুঁকে ধুঁকে অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও তিনি আপস করেননি। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন এক অকুতোভয় প্রাচীর। আজ যখন তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন, তখন জাতি এক মমতাময়ী দেশপ্রেমিক অভিভাবক ও সাহসী নেতৃত্বকে হারালো। তার করা ভবিষ্যদ্বাণী আজ সত্য প্রমাণিত হয়েছে; স্বৈরাচারের পতন হয়েছে এবং ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে তাদের ঠাঁই হয়েছে।

তার নাম বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে—আপসহীনতার এক উজ্জ্বলতম উপমা এবং আধিপত্যবাদ বিরোধী লড়াকু নেত্রী হিসেবে। তার বিদেহী আত্মা জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম লাভ করুক।

লেখক: সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। [email protected]

 

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়

শীর্ষ সংবাদ:

চূড়ান্ত প্রতিবেদন: আ.লীগ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে গুম সারাদেশে শুরু হচ্ছে যৌথবাহিনীর অভিযান সম্প্রচার, সাংবাদিক সুরক্ষা অধ্যাদেশ এক মাসের মধ্যে গঠনের চেষ্টা করছি: তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ৪ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক কারওয়ান বাজার, যান চলাচল শুরু তুচ্ছ কারণে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হচ্ছে, দাবি জামায়াতের এলপি গ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারণ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ, আইসিসিকে চিঠি বিসিবির কুয়াশায় ‘ঢাকা’ রাজধানীতে তাপমাত্রা নেমেছে ১২ ডিগ্রিতে এলপি গ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ আজ ভেনেজুয়েলায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: মামদানি ক্ষমতা হস্তান্তর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকবে ভেনেজুয়েলা: ট্রাম্প আইপিএল থেকে মোস্তাফিজ বাদ, আসিফ নজরুলের কড়া বার্তা