Apan Desh | আপন দেশ

দিনাজপুরে ৮৪ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা

মো: মনসুর রহমান, দিনাজপুর, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:২৫, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২০:২৫, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দিনাজপুরে ৮৪ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা

ছবি: আপন দেশ

ধানের জেলা হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরে ধানের পাশাপাশি আম ও লিচুরও রয়েছে ব্যাপক খ্যাতি। এ জেলাকে লিচুর রাজধানী-বলা হলেও লিচুর চেয়েও বেশী জমিতে রয়েছে আমের বাগান। দিনাজপুর জেলায় মূলত হিমসাগর, গোপালভোগ, মিশ্রীভোগ, ফজলি, ল্যাংড়া, আম্রপালি, নাগফজলি, ব্যানানা, কার্টিমন, হাঁড়িভাঙা, রুপালি, বারি-৪, গৌরমতীসহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ হয়। 

শীত শেষ হতে না হতেই বসন্তের শুরুতেই দিনাজপুর জেলার আমের গাছগুলো মুকুলে ছেয়ে গেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায় সোনালী-হলুদ রঙ-এর মুকুলে ছেয়ে গেছে আমের গাছগুলো। এখন বাগানে বাগানে পরিচর্যায় ব্যস্ত মালিক ও ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ উন্নত পদ্ধতিতে আম চাষ ও রক্ষণাবেক্ষণের নানান পদক্ষেপ নিচ্ছেন; যাতে আমের ভালো রং, দাম ও ফলন পাওয়া যায়। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসেব মতে জেলায় ৫ হাজার ৭২৬ হেক্টর জমিতে আমের গাছ রয়েছে। 

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, যেভাবে গাছে মুকুল এসেছে, যদি আবহাওয়া অনুকুলে থাকে তাহলে জেলায় এবার ৮৪ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশী আম উৎপাদন হবে। তিনি বলেন, এ জেলার আম সুস্বাদু হওয়ায় জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমনকি গত কয়েক বছর থেকে বিদেশেও আম রফতানী করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ফলন সঠিক রাখার জন্য ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা বাগান মালিকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। 

আরও পড়ুন<<>>জেনে নিন ঈদের স্পেশাল ট্রেনের সময়সূচি

আমাদের প্রতিনিধি জানান, শীতের শেষে বসন্তের আগমনে চিরিরবন্দর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গাছে গাছে দুলছে আমের মুকুল। ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আমগাছ ও বাগানজুড়ে দেখা মিলছে সোনালি-হলুদ রঙের মুকুলের। বসন্তের অন্যান্য ফুলের সঙ্গে আমের মুকুলের ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে চারপাশের পরিবেশ। উপজেলার গ্রামের বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণ ও আবাসিক এলাকার আঙিনায়, বাড়ির ভিটেতে এখন আমের মুকুলের সমারোহ। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে মুকুলের মিষ্টি সুবাস। গাছে গাছে মৌমাছির গুনগুন শব্দ আর ছোট পাখির আনাগোনায় প্রকৃতিতে যোগ হয়েছে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য। প্রকৃতির এ রূপ স্থানীয়দের মন কাড়ছে, অনেকেই থেমে উপভোগ করছেন ঋতু পরিবর্তনের এ দৃশ্য। 

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নিয়ম মেনে শেষ মাঘে যেসব গাছে মুকুল আসে, সেসব গাছে মুকুল স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি সঠিকভাবে সংরক্ষণ, পরিবহন, রফতনি ও বাজারজাত করা গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন। চিরিরবন্দরে হিমসাগর, গোপালভোগ, মিশ্রীভোগ, ফজলি, ল্যাংড়া, আম্রপালি, নাগ ফজলি, ব্যানানা, কার্টিমন, হাড়িভাঙ্গা, রূপালী, বারি-৪, গৌরমতি, আম্রপালিসহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ হচ্ছে। 

আম বাগানের মালিকরা জানিয়েছেন, এ বছর তুলনামূলক আগেই মুকুল এসেছে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর আম গাছে মুকুল এসেছে বেশি। যা ভালো ফলনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আলোকডিহি ইউপির রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর বিগত বছরগুলোর তুলনায় আম গাছে মুকুল ধরেছে অনেক বেশি। যদি বড় ধরনের বন্যা না হয় তাহলে আমের বাম্পার ফলন হবে। 

ফতেজংপুর ইউপির গ্রামের আজিজুল ইসলাম বলেন, বসত ঘরের পিছনে একটি আম গাছের বাগান করেছিলাম। গাছগুলো এখনো তেমন বড় হয়নি তবে এ বছর ছোট ছোট গাছেও আমের মুকুল ধরেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে। চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা বলেন, আম গাছে মুকুল ধরার সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এ সময় পর্যাপ্ত সেচের ব্যবস্থা করতে হবে, কোনভাবেই পানির ঘাটতি হওয়া যাবে না। মুকুল আসার পর সঠিক পরিচর্যা না হলে পোকামাকড়ের আক্রমণে ফলন ব্যাহত হতে পারে। তাই আমরা ফুল ফোটার পূর্বে একটি এবং আম মার্বেল আকৃতির হলে দ্বিতীয়বার স্প্রে করার (কীটনাশক ও ছত্রাক নাশক) পরামর্শ দিয়ে থাকি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হবে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়