ছবি এআই
কি যে শান্তি লাগছে। গত কয়েক দিন ধরে গুজব কি এবং কত প্রকার হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। ফেসবুক তো হয়ে গিয়েছিল গুজববুক। পর পর দুই রাত গুজবের ঠেলায় ঘুমাতে পারিনি। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দিতে গিয়েছি ‘মাহরাম’ শাহিন রিজভিকে সাথে নিয়ে। আচ্ছা, মাহরাম মানে কি? স্পাউস কি মাহরাম?
ভোটের আগের রাতে আমার বেস্টি নুসরাতের সাথে ফোনে অনেকক্ষণ হাহা হিহি আর ‘টেনশন-আলাপ’। ব্যারিস্টার নুসরাত স্বাতী ডাই হার্ট বিএনপি। আজকের থেকে নয়, বিএনপির জন্মলগ্ন থেকেই। যদিও আমরা নিশ্চিত ছিলাম বিএনপি জিতবেই, তবুও একটা শংকা ছিল ষড়যন্ত্রের। নুসরাত বললো, ‘বোরখার অর্ডার দে। আর তোর হিজাবি ছবি থাকলে বের করে রাখ।’ যদিও এসব নিতান্তই ‘ফানি টক’। টেনশনকে রিলিফ দিতে এগুলো করতে হয়।
তবে এটা ঠিক, দুই তিন রাত ধরে আওয়ামী ও জামাতি গুজবি (পড়ুন গজবি) প্রচারণায় একটু ভয় লেগেছিল ঠিকই।সকালে ভোট দিতে গিয়ে দেখলাম সব ঠিকঠাক আছে। আমার ভোট আমিই দিয়েছি। কত দীর্ঘ বছর পরে যে এমন সুস্থ, সুষ্ঠু, কারচুপিমুক্ত নির্বাচন দেখলাম। ধন্যবাদ বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী। ধন্যবাদ নির্বাচন কমিশন।
বিকেলে বুঝতে পারছিলাম জয়ের পথে ধানের শীষ। তবুও সাবধানের মার নেই। আবারও মাহরামকে সাথে নিয়েই গেলাম প্রেসক্লাব। সেখান থেকে ‘ঢাকাইয়া ভাই’ সাংবাদিক নেতা মোমিন হোসেনের সঙ্গে পুরান ঢাকায় আলুবাজার বংশাল মহল্লায়। ঢাকা ৭ আসনের বিজয়ী (তখনও নিশ্চিত জানা যাচ্ছে না উনি বিজয়ী কিনা) নেতা হামিদুর রহমান ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ আলাপ হলো। গত ১৭ বছর ধরে দলকে ধরে রাখতে কত ত্যাগ, পরিশ্রম করেছেন সেকথা বলতে বলতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে ছিলেন তিনি। এখন আলুবাজার মহল্লার উন্নয়নের বিষয়টি তাঁকে মনে করিয়ে দিলাম। তিনিও কথা দিলেন তাঁর এলাকার উন্নয়ন করবেন। মির্জা আব্বাস ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আরেকটি জরুরি কাজ সামনে এসে পড়ায় ঘরে ফিরতে হলো।
তারেক রহমানের বিজয়ে যে কি পরিমাণ খুশি হয়েছি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। জাতীয়তাবাদী শক্তির নিরঙ্কুশ এই বিজয় বাংলাদেশের শুভ শক্তির বিজয়।
তবে, অভিজ্ঞ নেতা জয়ের মুহূর্তেই আগামি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে শুরু করেন। আশাকরি তারেক রহমানও তাই করবেন।
বাংলাদেশের মাটিতে জামাতে ইসলামীর মতো একটি উগ্রবাদী পার্টি কিভাবে এতগুলো আসন পায় এবং সব আসনে কিভাবে হাড্ডাহাডি ফাইট দেয় সেটা অবশ্যই ভেবে দেখতে হবে। আওয়ামী ভোট কত শতাংশ জামাতের বাক্সে গেছে সেই চিন্তা মাথায় রাখতে হবে। আওয়ামী ষড়যন্ত্র আপাতত ব্যর্থ হলেও সাবধান থাকতে হবে। সবাইকে নিয়ে গঠনমূলক রাজনীতি করতে হবে। সব দেশের সঙ্গে মিত্রতা গড়ে তুলতে হবে, তবে কারও পদলেহী হওয়া যাবে না। দেশের মর্যাদা ধরে রাখতে হবে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ করেছিল এদেশের সকল মানুষ। আওয়ামীরা সেই বিজয় ছিনতাই করে নিজেদের মনোপলি কায়েম করতে চেয়েছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের সোল এজেন্সি নিয়েছিল। জুলাই বিপ্লবেও রাজপথে নেমেছিল এদেশের সব সাধারণ মানুষ। জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব ছিনতাই করেছিল জামাত-শিবির। তারাই জুলাই বিপ্লবের কাণ্ডারি এমন ধারণার উপর ভর করে তারা চেয়েছিল বাংলাদেশকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে। তারা দেশের শ্রমজীবী নারীদের অপমান করেছিল। তারা দেশের শান্তিকামী ধর্মীয় সংস্কৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে এদেশকে মওদুদি উগ্রবাদিতার দিকে ঠেলে দিতে চেয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ এই ষড়যন্ত্রকে রুখে দিয়েছে। রক্তপাতহীন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমেও যে বিপ্লব করা যায় সেটা দেখিয়ে দিয়েছে। তারা আওয়ামী ‘নো বোট, নো ভোট’ ষড়যন্ত্রকেও প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে বিএনপির মনে রাখতে হবে জয়ী হওোই সব কথা নয়। বিজয়কে অর্থবহ করতে পারাটাই সাফল্য।
বিএনপির এখন মন দিতে হবে দেশের উন্নয়নে। বাংলাদেশের প্রকৃত সংস্কৃতিকে জাগিয়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে তারা উগ্রবাদী নয়। তারা মাজার ভাঙা, বেহেশতের টিকেট বিক্রি করা, মোনাফেক, নারী বিদ্বেষী, রাজাকারের দলকে সমর্থন দেয়নি। কিন্তু ২০৩১ সালেও যেন জামাত নির্বাচনে পরাজিত হয় সেটি এখন থেকেই ভাবতে হবে।
একটি ভিডিও দেখলাম। যেখানে এক প্রৌঢ় রিকশাচালক আক্ষেপ করে কাঁদছেন যে, তার পেটে ভাত নেই, নির্বাচন দিয়ে তিনি কি করবেন? ভিডিওটি দেখে আমারই চোখে জল এসে গিয়েছিল। আমাদের দেশের মানুষ সত্যিই বড় গরীব, বড় দুঃখী। কত নির্বাচন এলো, গেল, কত নেতা হারলেন, জিতলেন। কিন্তু এদেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের চাকা কি ঘুরলো?
এখন দরকার দেশের সাধারণ শ্রমিক, কৃষকের উন্নয়ন।
বিজয়ী নেতা তারেক রহমানকে বলছি। আপনার প্রতি আমাদের অনেক ভালোবাসা, অনেক আশা, অনেক সমর্থন রয়েছে। নারী, পুরুষ, তৃতীয় লিঙ্গ, শিশু, যুব, প্রবীণ, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নাস্তিক, পাহাড়ি, বাঙালি—সকল বাংলাদেশী নাগরিক যেন এগিয়ে যেতে পারে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ‘ডালভাতের অর্থনীতি’র কথা বলেছিলেন। সত্যিই যেন সাধারণ মানুষ দুইবেলা অন্তত শাক দিয়ে, ডাল দিয়ে, ছোটমাছ দিয়ে ভাত শান্তিতে খেতে পারে সেদিকে দেশকে পরিচালিত করুন। বাংলাদেশের মানুষ শান্তি চায়, নারী পুরুষসহ সকলের নিরাপত্তা চায়। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
আবহমান বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে রক্ষা করুন, তার বিকাশ নিশ্চিত করুন। লাল সবুজের বাংলাদেশ যেন এবার সত্যিই সুখের মুখ দেখে, বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, নিজের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব নিয়ে গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত হয়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকে। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
আপন দেশ/এবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































