ফাইল ছবি।
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে শুরু হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান ২০২৬। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মুমিন মুসলমানরা পালন করছেন সিয়াম সাধনা। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশে ২য় রমজান পালিত হবে।
আপনার সুবিধার্থে ২য় রমজানের বিস্তারিত সময়সূচি, প্রয়োজনীয় তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো।
০২ রমজানের সময়সূচি (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
রমজানের শুরুতে সময়ের সঠিক জ্ঞান রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিচে ঢাকা ও অন্যান্য বিভাগের সময় দেয়া হলো:
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সময়
-
০২ রমজান, ২০ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার)
-
সেহরির শেষ সময় (ঢাকা): ভোর ৫:১১ মিনিট
-
ইফতারের সময় (ঢাকা): সন্ধ্যা ৫:৫৮ মিনিট
বিভাগভিত্তিক সেহরি ও ইফতারের সময়
|
বিভাগ |
সেহরির শেষ সময় |
ইফতারের সময় |
|---|---|---|
|
ঢাকা |
ভোর ৫:১১ |
সন্ধ্যা ৫:৫৮ |
|
চট্টগ্রাম |
ভোর ৫:০৬ |
সন্ধ্যা ৫:৫২ |
|
সিলেট |
ভোর ৫:০৪ |
সন্ধ্যা ৫:৫২ |
|
রাজশাহী |
ভোর ৫:১৭ |
সন্ধ্যা ৬:০৫ |
|
খুলনা |
ভোর ৫:১৫ |
সন্ধ্যা ৬:০১ |
|
বরিশাল |
ভোর ৫:১৩ |
সন্ধ্যা ৫:৫৯ |
|
রংপুর |
ভোর ৫:১৫ |
সন্ধ্যা ৬:০৩ |
|
ময়মনসিংহ |
ভোর ৫:১১ |
সন্ধ্যা ৫:৫৮ |
সতর্কতা: স্থানীয় মসজিদের আজান ও ক্যালেন্ডারের সাথে সময় মিলিয়ে নিন। দূরত্ব অনুযায়ী ঢাকার সময়ের সাথে কয়েক মিনিট যোগ বা বিয়োগ হতে পারে।
সতর্কবার্তা: যে ৭ কারণে রোজা ভেঙে যায়
ইবাদতের পূর্ণ সওয়াব পেতে হলে রোজা ভঙ্গের কারণগুলো সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। কোরআন ও হাদিসের আলোকে প্রধান ৭টি কারণ হলো:
১. ইচ্ছাকৃত পানাহার: সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইচ্ছা করে কিছু খেলে রোজা ভেঙে যায়। ২. খাদ্যের বিকল্প গ্রহণ: শরীরে গ্লুকোজ, পুষ্টিদায়ক ইনজেকশন বা রক্ত গ্রহণ করলে রোজা নষ্ট হয়। ৩. সিঙ্গা লাগানো: শরীর থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় রক্ত বের করলে রোজা ভেঙে যাওয়ার বিধান রয়েছে। ৪. ইচ্ছাকৃত বমি: যদি কেউ ইচ্ছা করে মুখ ভরে বমি করে, তবে তার রোজা হবে না। ৫. স্ত্রী সহবাস: রোজা রাখা অবস্থায় সহবাস করলে রোজা ভেঙে যায় এবং এর কঠিন কাফফারা দিতে হয়। ৬. ইচ্ছাকৃত বীর্যপাত: হস্তমৈথুন বা স্পর্শের মাধ্যমে বীর্যপাত ঘটালে রোজা নষ্ট হয়ে যায়। ৭. নারীদের বিশেষ অবস্থা: ঋতুস্রাব বা হায়েজ শুরু হলে ওই দিনের রোজা বাতিল হয়ে যায়।
হাদিসের আলোকে রমজানের ফজিলত
রমজান মাস মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ সময়। এর ফজিলত অপরিসীম:
১. গুনাহ মাফের সুযোগ
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (সহীহ বুখারী)।
২. জান্নাতের বিশেষ দরজা ‘রাইয়ান’
রোজাদারদের সম্মানে জান্নাতে 'রাইয়ান' নামক একটি বিশেষ দরজা থাকবে। কিয়ামতের দিন কেবল রোজা পালনকারীরাই এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবেন।
৩. সেহরিতে বরকত
সেহরি খাওয়া কেবল সুন্নাহ নয়, এতে বরকত রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।
৪. চারিত্রিক পবিত্রতা
রোজা মানুষের মন ও জিহ্বাকে পবিত্র করে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ ছাড়ল না, তার না খেয়ে থাকাতে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।
একনজরে রমজানের শিক্ষা
|
বিষয় |
হাদিসের শিক্ষা ও তাৎপর্য |
|---|---|
|
ক্ষমা |
আন্তরিকভাবে রোজা রাখলে জীবনের সব গুনাহ মাফ হয়। |
|
পুরস্কার |
জান্নাতের রাইয়ান দরজা দিয়ে প্রবেশের বিশেষ মর্যাদা। |
|
সেহরি |
এটি বরকতময় সুন্নাহ এবং শারীরিক শক্তির প্রধান উৎস। |
|
ইফতার |
ইফতারের সময়টি দোয়া কবুল ও আনন্দের মুহূর্ত। |
|
সতর্কতা |
মিথ্যা ও ঝগড়া ত্যাগ না করলে রোজা কেবল উপবাসে পরিণত হয়। |
আপন দেশ/এমবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































