Apan Desh | আপন দেশ

বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১০:১৬, ৮ নভেম্বর ২০২৬

বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস আজ

ফাইল ছবি

আজ ০৮ নভেম্বর (রোববার), বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস। পরিকল্পিত, বাসযোগ্য, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগর গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়। 

নগর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং নগর উন্নয়নে পরিকল্পনাবিদ, নীতিনির্ধারক, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করাই দিবসটির মূল লক্ষ্য।

এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘পরিকল্পনার মাধ্যমে গড়ে ওঠে সুন্দর জনপদ’। এবারের দিবসে নগর পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত, অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়লে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও জলবায়ু সহনশীল নগর গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্লোস মারিয়া দেলা পাওলেরা ১৯৪৯ সালে দিবসটির প্রচলন করেন। তিনি প্যারিসের ইনস্টিটিউট অব আরবানিজম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। নগর পরিকল্পনার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি এবং পরিকল্পিত নগর গঠনে পেশাজীবীদের ভূমিকা তুলে ধরাই ছিল তার উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সিটি অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানার্স এবং গ্লোবাল প্ল্যানার্স নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন দিবসটির প্রচার ও উদযাপনে ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন<<>>জাতীয় বিপ্লব-সংহতি দিবস আজ

দিবসটির একটি বিশেষ প্রতীকী পতাকাও রয়েছে। অধ্যাপক দেলা পাওলেরার পরিকল্পিত এ পতাকায় নীল, সবুজ ও সোনালি হলুদ রঙের সমন্বয় রয়েছে। নীল রং আকাশ ও বাতাস, সবুজ প্রকৃতি ও ভূমি এবং সোনালি হলুদ সূর্যের প্রতীক। এ প্রতীকের মাধ্যমে নগর পরিকল্পনায় মানুষ, প্রকৃতি ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ভারসাম্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

বর্তমান বিশ্বে দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাসনসংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যগত বৈষম্য এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে যানজট, বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা, জলাভূমি ও কৃষিজমি ধ্বংস, বস্তির বিস্তার এবং নাগরিক বৈষম্য বাড়ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার, সাশ্রয়ী আবাসন, আধুনিক গণপরিবহন, প্রশস্ত ও নিরাপদ ফুটপাত, সাইকেল চলাচলের ব্যবস্থা, পার্ক, উন্মুক্ত স্থান এবং পর্যাপ্ত সবুজায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নদী, খাল ও জলাভূমি সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশে নগর পরিকল্পনার প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় মূলত ১৯৫০-এর দশকে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে নগর পরিকল্পনা শাখার কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এ উদ্যোগের সূচনা। ১৯৫৩ সালে টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট প্রণয়ন এবং ১৯৫৬ সালে ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নগর পরিকল্পনা প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি লাভ করে। পরবর্তী সময়ে ১৯৫৯ সালে ঢাকার প্রথম মহাপরিকল্পনা প্রণীত হয়। ১৯৬২ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ফিজিক্যাল প্ল্যানিং বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হলেও এর শিক্ষাক্রম শুরু হয় ১৯৬৯ সালে। এর মধ্য দিয়ে দেশে পেশাদার নগর পরিকল্পনাবিদ তৈরির আনুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে ওঠে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের মতো পেশাজীবী সংগঠনও দিবসটি পালন করে।

আপন দেশ/জেডআই

 

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়