ছবি: আপন দেশ
আজ ২০ সেপ্টেম্বর (রোববার), বিশ্ব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দিবস। পরিচ্ছন্নতা শুধু ঘরবাড়ি বা রাস্তা ঝকঝকে রাখার বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সুরক্ষা এবং একটি সচেতন সমাজ গড়ে তোলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মানুষের জীবনকে যেমন স্বস্তিদায়ক করে, তেমনি বিভিন্ন রোগ ও দূষণের ঝুঁকিও কমাতে সহায়তা করে।
পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সুস্থ জীবন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে দিবসটি। তবে শুধু একটি নির্দিষ্ট দিনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেয়া নয়, প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলার বার্তাই এ দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস তাই শুধুমাত্র রাস্তা পরিষ্কার করার কর্মসূচি নয়; এটি মানুষের দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণ গড়ে তোলার একটি সুযোগ। পরিবেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব শুধু পুরসভা, প্রশাসন বা পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উপর ছেড়ে দিলে চলবে না। বাড়ি, অফিস, বাজার, স্কুল, রাস্তা কিংবা পার্ক—প্রতিটি জায়গাকে পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে।
আরও পড়ুন<<>>বিশ্ব যৌন স্বাস্থ্য দিবস আজ
দায়িত্ব শুরু হোক নিজের ঘর থেকেই
পরিবেশ রক্ষায় আমাদের প্রথম দায়িত্ব হল যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলা। বাড়ির বর্জ্য নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে এবং সম্ভব হলে ভেজা ও শুকনো বর্জ্য আলাদা করতে হবে। রান্নাঘরের জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট তৈরি করা যায়। কাগজ, কাচ, ধাতু ও নির্দিষ্ট ধরনের প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের জন্য আলাদা করে রাখা যেতে পারে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে যাওয়ার সময় কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বোতল বহন এবং অপ্রয়োজনীয় প্যাকেট এড়িয়ে চলার মতো ছোট ছোট অভ্যাস পরিবেশের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
পরিচ্ছন্নতা মানেই শুধু আবর্জনা সরানো নয়
পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার সঙ্গে জল ও বায়ু দূষণ কমানোর বিষয়টিও জড়িত। নদী, পুকুর বা জলাশয়ে প্লাস্টিক, থার্মোকল কিংবা অন্যান্য বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। রাস্তার পাশে আবর্জনা জমিয়ে না রেখে নির্দিষ্ট বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার ব্যবহার করা উচিত। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, আবাসন সমিতি, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান আরও কার্যকর হতে পারে। তবে অভিযান শেষ হওয়ার পর সেই জায়গা আবার যাতে আবর্জনায় ভরে না যায়, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।
আরও পড়ুন<<> বিশ্ব যৌন স্বাস্থ্য দিবস আজ
সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন অভ্যাসের পরিবর্তন বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবসের মূল বার্তা হওয়া উচিত—পরিচ্ছন্নতা কোনও একদিনের কর্মসূচি নয়, এটি প্রতিদিনের দায়িত্ব। আমরা প্রত্যেকে যদি নিজের তৈরি বর্জ্য সম্পর্কে সচেতন হই এবং তা সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করি, তাহলে সামগ্রিকভাবে পরিবেশের উপর বর্জ্যের চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব। একটি পরিচ্ছন্ন রাস্তা, একটি পরিষ্কার পার্ক কিংবা একটি দূষণমুক্ত জলাশয় শুধু দেখতে সুন্দর নয়; এগুলি মানুষের স্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনযাত্রার সঙ্গেও যুক্ত।
তাই বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবসে প্রতিজ্ঞা হোক—নিজে আবর্জনা ফেলব না, অন্যকেও নিরুৎসাহিত করব, বর্জ্য আলাদা করব এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দায়িত্ব প্রতিদিন পালন করব। প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকের সচেতন অংশগ্রহণই পারে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































