Apan Desh | আপন দেশ

ব্যাংক রেজল্যুশন, ভিসা নীতি-মানবাধিকার কমিশন আইন অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:২২, ১০ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ২০:২৬, ১০ আগস্ট ২০২৬

ব্যাংক রেজল্যুশন, ভিসা নীতি-মানবাধিকার কমিশন আইন অনুমোদন

ছবি: আপন দেশ

‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬’ এর ১৮ক ধারা বিলুপ্ত করতে ‘ব্যাংক রেজুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। চূড়ান্ত খসড়ায় রেজুলেশন আইনের ১৮ক ধারা বিলুপ্ত করা হয়েছে।

এছাড়া ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’ ও ‘ভিসা পলিসি ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ১৬তম বৈঠকে এসব খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।

তফসিলি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট, দেউলিয়াত্ব বা অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছিল। পরে এটি আইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়।

অধ্যাদেশটি সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের পর বিশদ পর্যালোচনার জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অধ্যাদেশের কিছু বিধান বিধিমালার মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য আলাদা করা হয়। পাশাপাশি সরকারের আর্থিক দায়, গ্রাহকদের স্বার্থ ও ব্যাংকিং খাতের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আইনে ১৮ক ধারা সংযোজন করা হয়।

এ ধারার মাধ্যমে রেজল্যুশনের আওতায় থাকা ব্যাংককে সচল রেখে পুনর্গঠন, মূলধন ও তারল্য সংকট দূর করা, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং সরকারের আর্থিক সংশ্লেষ কমানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল।

তবে আইনটির ১৮ক ধারার শর্ত পূরণ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় ধারাটি বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্যে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে খসড়াটির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান সহজ ও সুশৃঙ্খল করা, বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা এবং পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে ‘ভিসা পলিসি ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

আরও পড়ুন <<>> শেখ হাসিনা-হাদির খুনিদের ফেরত চায় বাংলাদেশ

নতুন নীতিতে প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর, জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং পারস্পরিকতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে।

বিদ্যমান ‘ভিসা নীতিমালা, ২০০৬’-এ ৩৩টি ভিসা ক্যাটাগরি ছিল। নতুন ‘ভিসা পলিসিতে’ তা বাড়িয়ে ৩৪টি করা হয়েছে।

নতুন নীতির ভিত্তিতে আগের সব ভিসা-সংক্রান্ত সার্কুলার বাতিল করে একটি সমন্বিত ও আধুনিক ভিসা কাঠামো তৈরি করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো সমন্বিতভাবে নতুন নীতি বাস্তবায়ন করবে।

মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নিশ্চিতকরণে কার্যকর ও স্বাধীন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

প্রস্তাবিত আইনে একজন চেয়ারপারসন ও চারজন কমিশনার নিয়ে কমিশন গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কমিশনে অন্তত একজন নারী সদস্য থাকার পাশাপাশি নৃ-গোষ্ঠী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

কমিশনের সদস্য বাছাই কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, নাগরিক প্রতিনিধি এবং নৃ-গোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া কমিশনের কার্যপরিধি স্পষ্ট করা, অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং কার্যকর তদন্তের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে ভুক্তভোগীর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বা ক্ষতি রোধে কমিশনকে অন্তর্বর্তী আদেশ দিতে ক্ষমতা দেয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

জাতিসংঘের ‘নির্যাতনবিরোধী সনদের ঐচ্ছিক প্রটোকল’ বা ওপিসিএটি অনুযায়ী হেফাজতে নির্যাতন, মৃত্যু ও গুম প্রতিরোধে একটি জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা (এনপিএম) ইউনিট গঠনের বিধানও প্রস্তাবিত আইনে রাখা হয়েছে।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়