ছবি সংগৃহীত
আজ ০৭ জুন (রোববার) বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস। বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা ইস্যুতে সচেতনতা বাড়াতে ২০১৮ সালে প্রথম এ দিবসটি পালন করা হয়। এরপর থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররাও যৌথভাবে দিবসটি পালন করে আসছে।
এ বছর বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য হলো: ‘সমস্যা থেকে সমাধানে — সর্বত্র নিরাপদ খাদ্য’। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের জন্য এবার গবেষণা ও জ্ঞানের অগ্রগতিতে বিজ্ঞানের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। আমাদের দেশে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা অনেকটা নিশ্চিত হলেও পুরোপুরি নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি এখনো দুরাশা। গত পাঁচ অর্থবছরের পরিসংখ্যান বলছে, দেশে অনিরাপদ খাদ্য ক্রমে বাড়ছে। সরকারের কিছু উদ্যোগ থাকলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি মুক্ত খাবার তাতে নিশ্চিত হচ্ছে না।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এক প্রতিবেদন বলছে, মানুষের তৈরি দুর্যোগ ও প্রাকৃতিক কারণে সারা বিশ্বে মানুষ খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির অভাবে ভুগছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গেও খাদ্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট। কেমিক্যাল ঝুঁকি, জৈবিক ও শারীরিক মাধ্যমে খাদ্য দূষণ হচ্ছে। এ অনিরাপদ খাবার খাওয়ার ফলে বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। সারা বিশ্বে ৬০ কোটি মানুষ অনিরাপদ খাদ্যের মাধ্যমে রোগাক্রান্ত হচ্ছে।
বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার মধ্যে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। আইসিডিডিআরবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের ফলে ক্যানসার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের ফলে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিটি মানুষেরই নিরাপদ খাদ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
আরও পড়ুন<<>>আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস
জনগণের নিরাপদ খাদ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) গঠিত হয়। উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণ- প্রতিটি ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এ সংস্থার কাজ।
এ সংস্থার এক প্রতিবেদনই বলছে, দেশে দিন দিন অনিরাপদ খাদ্যের সংখ্যা বাড়ছে। বিগত পাঁচ বছরে দেশে যত সংখ্যক খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা করেছে বিএফএসএ, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ খাদ্য মিলেছে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে।
তথ্য বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এক হাজার ৭৩১টি খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছিল বিএফএসএ। ওই সময় অনিরাপদ খাদ্য শনাক্ত হয় ১৯৬টি, যা মোট নমুনার ১১ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছর এটা বেড়ে হয় ১৫ শতাংশ। ওই সময় এক হাজার ৩৮১টি নমুনা পরীক্ষা করে অনিরাপদ খাদ্য মেলে ২১৬টি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে নমুনা সংগ্রহ করা হয় এক হাজার ৭০টি, আদর্শমান উত্তীর্ণ হতে পারেনি ৯১টি, যা ৯ শতাংশ। ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বাধিক দুই হাজার ৩৫৪টি নমুনা সংগ্রহ করার বিপরীতে অনিরাপদ বিবেচিত হয় ২৬৮টি, যা ছিল ১১ শতাংশ।
পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. আলী আব্বাস মোহাম্মদ খোরশেদ বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়ের কিছু দায়িত্ব রয়েছে। অজ্ঞতা ও সচেতনতার কারণে যেমন কৃষকদের কাছে খাদ্য নিরাপদ থাকছে না, তেমনি কেনার পর খাবার খাওয়ার আগ পর্যন্ত খাদ্য নিরাপদ রাখার দায়িত্ব ভোক্তার, সেখানেও কিন্তু খাবার অনিরাপদ হচ্ছে। তাই এখানে উৎপাদক, বিপণনকর্মী ভোক্তাসহ সব অংশীদারের দায়িত্ব নিতে হবে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































