প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে একযোগে দেশের ৫৩টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখানে থেকে সড়কপথে তিনি দিনাজপুরের দিকে রওনা হবেন। দিনাজপুরে পৌঁছে কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া নামকস্থানে ১২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের মাধ্যমে একযোগে দেশব্যাপী ৫৩টি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তারেক রহমান। পরে সেখানে সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।
বিকেল সাড়ে ৩টায় দিনাজপুর পৌরসভার উপশহরে শেখ ফরিদ মডেল কবরস্থানে নানা-নানি ও খালার কবর জিয়ারত করবেন। বিকেল ৫টায় দিনাজপুর সার্কিট হাউজ চত্বরে সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে যোগ দেবেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকার মৃতপ্রায় ও ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনঃখনন করা হবে। এতে সেচব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে, বর্ষাকালীন জলাবদ্ধতা কমবে। এ ছাড়া মাছ চাষ, হাঁস পালনসহ খালনির্ভর অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। খাল পুনরুদ্ধারের ফলে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে, উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, বন্যা-জলাবদ্ধতা হ্রাস পাবে, স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
আরও পড়ুন<<>>প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘কৃষক কার্ড’ বিষয়ে বৈঠক
বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকটের কারণে গ্রামীণ অর্থনীতি এবং কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতো। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। ১৯৭৭ সালে তার উদ্যোগে গৃহীত খাল খনন কর্মসূচি গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। প্রায় ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খনন করা হয়েছিল, যা ‘সবুজ বিপ্লব’-এর অংশ হিসেবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খনন করা অনেক খাল এখন ভরাট হয়ে গেছে, ফলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এসব সংকট নিরসনে সরকার নতুন করে খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর দিনাজপুর সফর উপলক্ষে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দিনাজপুর জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ইতিমধ্যে এসে পৌঁছেছে। তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা হয়েছে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী সব প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর তিনটি কর্মসূচি স্থলে এসএসএফের তত্ত্বাবধানে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এসএসএফ ছাড়াও সেনাবাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তিন হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া সাদা পোশাকে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য, এনএসআই, ডিজিএফআইসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































