Apan Desh | আপন দেশ

কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৬:৪১, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৬:৫৮, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ জারি

ছবি: আপন দেশ

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চূড়ান্ত ও নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেছে সরকার ।

এ অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য হলো—ধর্ম, বর্ণ, পেশা, লিঙ্গ, জেন্ডার পরিচয় বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা। অধ্যাদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এর পরিধি সমগ্র বাংলাদেশে বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাইরে অবস্থিত সরকারের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হবে। 

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এ অধ্যাদেশ জারি করে সরকার।

এ অধ্যাদেশে যৌন হয়রানির একটি বিস্তৃত সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে, যেখানে শারীরিক, মৌখিক, অ-মৌখিক, ডিজিটাল ও অনলাইন আচরণসহ জেন্ডারভিত্তিক সকল অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত হয়রানিও এর আওতায় আনা হয়েছে

আরও পড়ুন<<>> ভোটের পোস্টার মুদ্রণ না করতে ছাপাখানাকে কড়া নির্দেশ

অধ্যাদেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি (ICC) গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সকল প্রযোজ্য কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, তদন্তকালীন সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং উপযুক্ত শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। শাস্তির মধ্যে রয়েছে তিরস্কার থেকে শুরু করে পদাবনতি, চাকরিচ্যুতি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করা পর্যন্ত।

অভিযোগকারীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষায় অধ্যাদেশটি সারভাইভার-কেন্দ্রিক পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। অভিযোগের কারণে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট সুরক্ষাব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা নিরুৎসাহিত না হন।

অসংগঠিত খাতে, যেখানে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন সম্ভব নয়, সেখানে স্থানীয় অভিযোগ কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে এ কমিটি গঠিত হবে, যাতে সকল নাগরিক অভিযোগ জানানোর কার্যকর সুযোগ পান।

অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সরকার বিশ্বাস করে, এ অধ্যাদেশ কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী আইনি ভিত্তি প্রদান করবে এবং একটি সম্মানজনক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়

শীর্ষ সংবাদ:

শেরপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইউএনও-ওসিকে প্রত্যাহার পদ্মা সেচ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের পডকাস্টে আগামীর বাংলাদেশের রোডম্যাপ শোনাবেন তারেক রহমান তারেক রহমান উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন আজ আরও ১৩ নেতা এনসিপি ছাড়লেন ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায় তেহরানের প্রতি কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর বার্তা ট্রাম্পের ছাদখোলা বাসে ঘরে ফিরবেন সাবিনারা ভরিতে ১৬২১৩ টাকা বাড়িয়ে রেকর্ড দাম নির্ধারণ শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা জামায়াত কর্মীর নিহতের ঘটনায় সরকারের বিবৃতি ই-ভ্যাট সিস্টেমের সেবা সাময়িক বন্ধ থাকবে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশ ভ্রমণে যুক্তরাজ্যের সতর্কবার্তা