Apan Desh | আপন দেশ

একজন তালেব মাস্টারের স্রষ্টা আশরাফ সিদ্দিকী

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:০৬, ৮ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ২০:১৪, ৮ মার্চ ২০২৬

একজন তালেব মাস্টারের স্রষ্টা আশরাফ সিদ্দিকী

আশরাফ সিদ্দিকী। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার–২০২৬-এর জন্য ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

এ বছর সাহিত্যে অবদানের জন্য মরণোত্তরভাবে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ড. আশরাফ সিদ্দিকী। বাংলা সাহিত্য ও লোকঐতিহ্য নিয়ে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাকে এ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননায় ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আশরাফ সিদ্দিকী ছিলেন একজন কবি, কথাসাহিত্যিক, লোকগবেষক এবং বাংলা একাডেমি-এর সাবেক মহাপরিচালক। বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন যেসব সাহিত্যিক, তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। জীবনে তিনি পাঁচশোরও বেশি কবিতা রচনা করেছেন এবং বাংলার লোকঐতিহ্য নিয়ে গভীর গবেষণা করেছেন।

১৯২৭ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী গ্রাম তার জন্ম। বাবা আব্দুস সাত্তার সিদ্দিকী ছিলেন শৌখিন হোমিও চিকিৎসক এবং ইউনিয়ন পঞ্চায়েত ও ইউনিয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান। মা সমীরণ নেসা ছিলেন স্বভাবকবি।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালেই তার কবিতা ‘স্বগত’ ও ‘পূর্বাশা’ সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এসময় তিনি কিছু আঞ্চলিক বাংলা ধাঁধা সংগ্রহ করে পাঠান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর কাছে। রবীন্দ্রনাথ তার কাজের প্রশংসা করেন। পরে তিনি পড়াশোনার জন্য শান্তিনিকেতনে যান। ১৯৪৭ সালে বাংলায় অনার্স পড়ার সময় ভারত বিভাগ ঘটলে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

দেশ বিভাগের পর এক স্কুলশিক্ষকের পরিবারসহ আত্মহত্যার ঘটনা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সে ঘটনা থেকেই তিনি লিখেন বিখ্যাত কবিতা ‘তালেব মাস্টার’, যা ১৯৫০ সালে প্রকাশিত ‘তালেব মাস্টার ও অন্যান্য কবিতা’ কাব্যগ্রন্থে স্থান পায়। পরবর্তীতে প্রকাশিত হয় তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘বিষকন্যা’ ও ‘উত্তরের তারা’।

১৯৬৫ সালে ‘রাবেয়া আপা’ গল্পের মাধ্যমে তিনি গল্পকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তবে ‘গলির ধারের ছেলেটি’ গল্পটি তাকে বিশেষভাবে পরিচিতি এনে দেয়। এ গল্প অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র ডুমুরের ফুল, যা একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

আরও পড়ুন <<>>মো. নজরুল ইসলাম মোল্লার কবিতা

লোকসাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করতে যান ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে থাকাকালে তিনি লেখেন জনপ্রিয় শিশুসাহিত্য ‘সিংহের মামা ভোম্বল দাস’, যা পরে ১১টি ভাষায় অনূদিত হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের লোকঐতিহ্য নিয়ে তিনি রচনা করেন ‘লোকসাহিত্য’, ‘কিংবদন্তির বাংলা’, ‘শুভ নববর্ষ’, ‘লোকায়ত বাংলা’, ‘আবহমান বাংলা’, ‘বাংলার মুখ’ এবং ‘বাংলাদেশের রূপকথা’সহ বহু গ্রন্থ।

বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি ১৯৬৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৮৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন। দীর্ঘ সাহিত্যজীবন শেষে ২০২০ সালের ১৯ মার্চ তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। পরে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়