Apan Desh | আপন দেশ

ভুলে যাওয়ার রোগ: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৪০, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভুলে যাওয়ার রোগ: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ

ছবি: সংগৃহীত

ভুলে যাওয়ার রোগকে আমরা সাধারণভাবে স্মৃতিভ্রংশ বা মেমোরি লস বলি। তবে এটা হঠাৎ করে দেখা দেয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি ধীরে ধীরে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক কারণে তৈরি হয়। তবে কিছু বিষয়ে সচেতন থাকলে এ সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

ভুলে যাওয়ার প্রধান কারণ

১. অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা: দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ থাকলে মস্তিষ্ক ঠিকভাবে তথ্য ধরে রাখতে পারে না। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনা ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

২. ঘুমের অভাব: নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্ক তথ্য সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে থাকে।

৩. বয়সজনিত পরিবর্তন: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কিছুটা কমে যাওয়া স্বাভাবিক বিষয়।

৪. ডিপ্রেশন ও উদ্বেগ: মানসিক অবসাদ বা অতিরিক্ত উদ্বেগ থাকলে মনোযোগ কমে যায়। এতে মনে রাখার ক্ষমতাও প্রভাবিত হয়।

আরও পড়ুন <<>> ‘প্রপোজ ডে’ আজ

৫. ভিটামিনের ঘাটতি: বিশেষ করে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি এবং আয়রনের অভাব স্মৃতিভ্রংশের কারণ হতে পারে।

৬. থাইরয়েড সমস্যা: থাইরয়েড হরমোন কম বা বেশি হলে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।

৭. কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: ঘুমের ওষুধ, ডিপ্রেশনের ওষুধ কিংবা কিছু ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন সেবনে স্মৃতি দুর্বল হতে পারে।

৮. মস্তিষ্কের রোগ: স্ট্রোক, মাথায় আঘাত, মস্তিষ্কে টিউমার কিংবা আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার মতো রোগ স্মৃতিভ্রংশের গুরুতর কারণ হতে পারে।

কখন সতর্ক হবেন

পরিচিত মানুষের নাম ভুলে যাওয়া, বারবার একই কথা বলা, দৈনন্দিন কাজ করতে সমস্যা হওয়া এবং
জায়গা বা সময় সম্পর্কে বিভ্রান্ত হওয়া। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।

ভুলে যাওয়া কমাতে যা করবেন

নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া (শাকসবজি, মাছ, বাদাম ইত্যাদি)। নিয়মিত বই পড়া, ধাঁধা সমাধান করা বা নতুন কিছু শেখা। মানসিক চাপ কমানো এবং প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা। সচেতন জীবনযাপন ও সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে স্মৃতিশক্তি অনেকটাই ভালো রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপন দেশ/এসএস

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়