ছবি: সংগৃহীত
ঘড়ির কাঁটা ঘুরিয়ে ২০২৪ সালের ৮ জুনে ফিরে তাকালে নিউজিল্যান্ডের জন্য স্মৃতিটা ছিল ভীষণ তিক্ত। গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের কাছে ৮৪ রানের লজ্জাজনক হার কিউইদের সে বিশ্বকাপে সুপার এইটের স্বপ্ন কার্যত শেষ করে দিয়েছিল।
ঠিক ২০ মাস পর সে আফগানিস্তানের বিপক্ষেই মঞ্চটা বদলাল, ফলটাও। রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে পুরোনো ক্ষতের জবাব দিল নিউজিল্যান্ড।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপকে শুরু থেকেই বলা হচ্ছিল মৃত্যুকূপ। নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো তিন শক্তিশালী দলের সঙ্গে আছে কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সে গ্রুপ অব ডেথের উদ্বোধনী ম্যাচেই মুখোমুখি হয় নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তান। চাপের এ ম্যাচে অভিজ্ঞতার জোরে শেষ হাসি হাসল কিউইরা।
টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান। চেন্নাইয়ের ধীরগতির উইকেটে শুরুতে বেশ সাবধানী ব্যাটিং করে আফগানিস্তান। পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৪ রান। ধীরে ধীরে ইনিংসের গতি বাড়াতে থাকেন গুলবাদিন নাইব ও সেদিকউল্লাহ আতাল। তৃতীয় উইকেটে ৫১ বলে ৭৯ রানের দারুণ জুটিতে আফগান ইনিংসের ভিত গড়ে দেন এ দুজন।
তিন নম্বরে নেমে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন গুলবাদিন নাইব। ৩৫ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় তিনি করেন ৬৩ রান, যা আফগানিস্তানের ইনিংসে সর্বোচ্চ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান তোলে আফগানিস্তান।
নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে লকি ফার্গুসন সবচেয়ে সফল। ৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট পান রাচীন রবীন্দ্র, ম্যাট হেনরি ও জ্যাকব ডাফি। রাচীন একমাত্র ওভারে ১৪ রান খরচ করলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট এনে দেন। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে তাঁকে ছক্কা মারলেও পরের বলেই বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেটরক্ষক টিম সাইফার্টের হাতে ধরা পড়েন গুলবাদিন।
১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। মাত্র ১.৪ ওভারের মধ্যেই ১৪ রানে দুই ওপেনারকে হারায় তারা। দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে ফিন অ্যালেন (১) ও রাচীন রবীন্দ্রকে (০) বোল্ড করে চাপে ফেলেন মুজিব উর রহমান।
সে চাপ সামাল দেন টিম সাইফার্ট ও গ্লেন ফিলিপস। তৃতীয় উইকেটে ৪৭ বলে ৭৪ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এই দুজন। দশম ওভারের দ্বিতীয় বলে রশিদ খানের বলে বোল্ড হয়ে ফিরলেও ২৫ বলে ৭টি চার ও একটি ছক্কায় ফিলিপসের ৪২ রানের ইনিংস কিউইদের জয়ের পথ মসৃণ করে দেয়।
এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকা সাইফার্ট তুলে নেন তার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি। ৪২ বলে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় তিনি করেন ৬৫ রান। ১৩তম ওভারের পঞ্চম বলে মোহাম্মদ নবির বলে আউট হলেও ততক্ষণে ম্যাচ নিউজিল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে।
শেষদিকে সামান্য নাটকীয়তা হলেও লক্ষ্য ছুঁতে সমস্যা হয়নি কিউইদের। ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড। এই জয়ে শুধু গ্রুপ পর্বে গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্টই নয়, ২০২৪ সালের বিশ্বকাপের অপমানজনক হারের প্রতিশোধও তুলে নিল কিউইরা।
এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এর আগে ১৭০ রান তাড়া করে জেতেনি নিউজিল্যান্ড। আজ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বিশ্বকাপে নিজেদের রেকর্ড গড়েই জিতল স্যান্টনারের দল।
আপন দেশ/এমবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































