Apan Desh | আপন দেশ

অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু, অচল চট্টগ্রাম বন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১১:০৪, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু, অচল চট্টগ্রাম বন্দর

ছবি : আপন দেশ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে এ কর্মসূচির কারণে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিন সকাল ৮টা থেকে ধর্মঘট শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বন্দর ভবনের সামনে ৪ নম্বর গেটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। একই সময়ে বন্দরের ভেতরে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ ছিল।

জানা গেছে, সকাল থেকেই জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবন এবং বহির্নোঙর এলাকায় পণ্য ওঠানামা ও পরিচালনার কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থবির হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রায় ২০০ জন সাধারণ কর্মচারী ও শ্রমিককে জরুরি সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়। তবে আন্দোলনকারীরা ওই বৈঠকে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন<<>>বড় উত্থানের পর স্বর্ণের দামে পতন, আজ থেকে কার্যকর

এর আগে শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়। সেখানে এনসিটি ইজারা না দেয়ার দাবির পাশাপাশি বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার, আন্দোলন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নেয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনি পদক্ষেপ বন্ধের দাবি জানানো হয়।

সংগ্রাম পরিষদের নেতারা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। তাদের অভিযোগ, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক নেতাদের বিভিন্নভাবে চাপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। এতে কর্মসূচি আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তারা।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, গত জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ধাপে ধাপে কর্মবিরতি পালন করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার আশ্বাসে সাময়িকভাবে কর্মসূচি স্থগিত রাখা হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবারও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে নামতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

এদিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর বিভাগের উপ-কমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রফতানির প্রধান প্রবেশদ্বার হওয়ায় এ কর্মবিরতির প্রভাব বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশঙ্কা করছে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়